পাতা:প্রবাসী (সপ্তদশ ভাগ, প্রথম খণ্ড).pdf/২৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


88৬ প্ৰবাসী ভাদ্র, ১৩২৪ একলা ভোরের বাতাসে তার বেদনার ভার লঘু করে দেখাত | মনে হত কে যেন সযত্নে মোম দিয়ে এক যেতেন তা’ মাযে দেখলে বুকত কি না কে জানে ভক্তিমতী পূজারিণীর প্রতিমা গড়ে রেখে গেছে। পাথরের বাত্মাৰাঘেরা সেই সেকেলে-ধরণের বাড়ী- যে দরজা দিয়ে শুক্লপক্ষের দিনে খেত-পাথরের মেজের উপর খানায় প্ৰায় সারাদিনই তার হাসি গান শোনা যেত জ্যোংঙ্গা এসে পড়ত, তাই উণ্টো দিকের দরজায় সামনে নন্দার শীরখানি দেখলে মনে হয় অসাগর মন্থন করে সেইদিকে মুখ করে সে প্রতিদিন ঠিক একটি জায়গাতেই তোলা, কিন্তু সেই অশ্ৰ-সজল চোখের দৃষ্টি ছাপিয়ে তার এসে দাড়াত । আরতির শেষে জোৎস্নার আলোর মধ্যে মুখে হাসির অভাব ছিল না তার সখী মন্দা আর মানসী পোলি জরি চল গলায় দিয়ে সে যখন বিগ্রহের অনেক সময়ই বলত—“ছা ভাই, তোর এত হাসি আসনের তলে তার স্বীণ গোঁর তন্থখানি নত কহ সুনন্দা বৰ্ষা-সন্ধাৱ সূৰ্য্যকিরণের লুটিয়ে প্ৰণাম করত, তখন মনে হত যেন একবা বহু হাসিতে মুখ ভরে বলত, “আমার দুঃখ করবার কি গন্ধা ফুল ডাল-দু তুষার-স্তুপের উপর হয়ে পড়েছে। আছে ভাই, যে হাসব না ? আরও নেই সংসার ও নেই, মরে তখন তার সে সুত্ৰ নিষ্কলঙ্ক দেহে এককণা ধূলা লাগলে দুঃখ দিতেও কেউ নেই, মান করে চোখের জল ল তে ও বোধ হয় লোকের চোখে সইত না । এই পৃথিবীর খুলিতেই কেউ নেই। আছে ত শুধু পর, তা’ পর ত’ কখন কাউকে যে তার জয়, এই পৃথিবীর শ্মশানের কোলেই যে তার শেষ কায়াতে পারে না, তাই আমি হাসি নিয়েই আছি।” শ্য, তা তখন কে বলৰে ? দেবলোকের কোনাে ঋষি এমনি করে যখন সে জগতে লোকের সবচেয়ে বড় গলার পাৰিজাতমালা যেন কোন ফ্যাপা হাওয়ায় টান থােটাকেই তার হাসির খারাক বলে’ পরিচয় দিত, তখন এই দেবমন্দিরে খসে পড়েছে । ছিাড়া পাষাণ-প্ৰাণের পরিচয় পেয়ে সখীরা বিস্ময়ে বৃষ্টি, বহুপাত, অমাবস্যার ঘোর অন্ধকার, আয়রি সিাফ হয়ে তার হাতিরা মুখ আর জলভরা চোখে সময় নন্দার কাছে সবই সমান সেই এক বেশে এ দিকে তাকিয়ে থাকত। মানসী হয়ত মুখ ফুটে বলেই পথে রোজ এসে সেই একটি জায়গাতে সে দাড়াবেই কেল, ”সই, তোর হৃদয়টা কি পাষাণ ” সই ৰণত, পুজার শেষে পুজার লিগালোয়ই মত সে নিজেকে গ লা, চাট্‌ফা রক্ত আর কোমল মাংসের ।” মনে করত । তখন আনন্দে তার স্নান মুখও উজ্জল হয়ে মাছবের চোখের আড়ালে এলেই দুনন্দার মুখের উঠত । চোখের জলও উপচে পড়তে চাইত, কিন্তু কাজ অন্ত যেত। হাসিটা ছিল তার পোষাকী অলঙ্কার কালো পুজালের মধ্যেই সে জল মিলিয়ে যেত । কোচ অমন অলঙ্কারখানি বাদ দিয়ে ওয়া মানুষ বোধ হয় কখনও তার চোখ দিয়ে জল পড়তে যে তাঁর পক্ষে হয় ; কিন্তু নিজের একার রাজ্যে পৌছতে- নি। লোকের চোখে তার অশখাৱা হানি হয়েই দে পেছতেই বাইরের সজা আপনা থেকেই খসে পড়ত। চোখের সমস্ত জল সিঞ্চন করে সে এই হাসি নীর ঘাটের উপরেই ছিল শিবমন্দির। মন্দিরের চুড়া ফসল ফলিয়েছিল ( ২ ) পালো করে, তোরের ৰেলা সুৰ্য্য উঠতে যেমন কোনো নিতুল হ’ত না, সন্ধ্যায় আমবাগানের পশ্চিমে আকাশ সুনন্দার শোবার ঘরে তার শিয়রের কাছে ছোট এক tা করে স্বৰ্য্য, অন্তযেতেও যেমন ভুল হত নাতেমনি প্ৰতি শ্বেত-পাথরের বাক্সের মধ্যে কয়েকটি তিনি ছিল দিয়ে আয়তির সময় চণ্ডা চালা জরিপাড়ের কটিই ছোটখাট জিনি, একটি একটু বড় ছিল, সে পঞ্চলে শাদা একখানা কাপড় পরে, জরির আঁচলখানা একখানা চিঠি। চিঠিখানা কিন্তু সুনন্দার হাতেই লেঃ । গলার দিয়ে বিগ্রহের সামনে জোড় হাত করে দাঁড়াতেও সেই নিজের হাতের লিখনথানার উপরেই তা সৰু মন্দার কখন ভূল হ’ত না । যিয়ের প্রদীপেৱ দ্বিধ আলে বেশী টান সেখানা সে কাকে লিখেছিল বলা যায়ন তার রক্তহীন মুখের উপর গড়ে তাকে আরো রক্তহীন কারণ লিপির মাথায় কোনো সম্বোধনই ছিল না। তিয়ে সংখ্যা ৪৪৭ ভায় আশল লোকটির নামের খোজ মেলে না। তবে লিখে দিতে সবাই পাগল। যাফে শিশু তার কাঢ়ি আলোয় বে লিখেছিল তার খোজ যেটুকু মেলে সেটাও কঠিন বাধনে না খাধে, তার দুঃখ রাখার জায়গা থাকে দেহা ফেলে দেবার মত নয় — না। কিন্তু সেই জন্মমুহূৰ্ত্ত থেকেই বিধাতা সেই শিত মানুষের যেটা সকলের চেয়ে শ্ৰেষ্ঠ ধন, তার ভাগ আমির উপর বাম । রক্তের বঁাধন আমার কার সঙ্গে ছিল যে প্ৰাণ ধরে কাউকে দিতে পারে না । দিতে গেলেই জানতাম না, তবে আনন্দে আমার কাছে কোনো মাছৰ কমে যাৰে । তাই আমার দুঃখিনীর ধন যে দুঃখ তার ধরা দেয়নি। বিশ্ব আমার কাছে নীৰ প্ৰকৃতি জেলেই আমি আর কাউকে দিতে চাই না । আর কিছু ছিল। মানুষের প্রাণের উদাস তার মধ্যে এক কড়ে ধরবার মত, সারাজীবন যত্নে বুকের মধ্যে লুকিয়ে ছিল না বাবার মত ত আমার নেই ; দুঃখও যদি না থাকত, ছলেবেলায় আপন বলে মেনেছিলাম এমন একটিা ধাঁচতাম কাৱ মুখ চেয়ে ? কিন্তু বেদিন আমার মুখ আমার মনে পড়ে, সে আমার মায়ের মুখ । শেষ হবে, মনে করেছিলাম, সেদিন তোমার হাতে আমার দিনে ঘটনা ত কিছু আমার জীবনে ঘটেনি, খেলার সাণী একালার ধন তুলে দিয়ে যাৰ । এ যে একান্ত আমারই । কেউ ছিল না যে তার সঙ্গে কোনো স্থতি জড়িয়ে থাকৰে । আর ফাউকে কি আমি এর সান বলে দিতে পারি ? তাই সবই ছায়ার মত অস্পষ্ট এত বাইরে প্রকাশ করবার নয় অামার দেবতা যে প্ৰথম বে ঘটনার স্মৃতি আমার মনের মধ্যে পরিষ্কা নিতে এসে আমার বুকের মাঝখানটিতে এ অমূল্য নিধি করে আঁকা আছে, সে একটা কান্নার স্বতি । ছবির ত্ব রেখে গিয়েছেন বাইরে ত তিনি তার কোনো চিহ্ন মনে পড়ে আনি মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে কাধের উপ রেখে যাননি। দেবতার উপর হাত চালিয়ে আমি কোন মাথা রেখে পিয়ে কুপিয়ে কাদছি আর মায়ের দুই চোখ জগতের কাছে তার সন্ধান বলে দেবো ? কৃপণের দিয়ে করার করে আবিশ্ৰাম জল পড়ে যাচ্ছে। চোখো যেমন পৃথিবীর মাটির মাঝখানে কঠিন হয়ে লুকিয়ে দলে ভেজা মায়ের সুন্দর মুখখানি শিশিরভেজা পরে কে কিন্তু উপরে তায় চির-হরিৎ বদ্ধরার ঘাসের আমার চোখের উপর এখনও ভাসছে। মাছে পাৰে ধারণ কোমল অঙ্গ মেলে থাকে, আমার এ বুকতরা দাঁড়িয়ে ছিলেন একটি বৃদ্ধ । মাথার খোকা খোকা কেঁকো কঠিন দুঃখের উপবেও তেমনি করেই আমার মুখভরা চুল ৬রি একেবারেই শাদা । সমুদ্ৰৱ কৰাৰ মত সেই ফুটে আছে চুলের ব্লাশ তার শাস্তু কণ মুখখানিকে বিয়ে আছে। আমার মুখে তুমি চিরদিন হাসিই দেখে এসেছ, তাই তাকে বলেন, “দুঃখিনীর এই মেয়েটিকে আপনাকে দিতে হয় হয়ত এ কায়ার ইতিহাস তুমি বিশ্বাস করবে না। এসেছি। এটুকু কাছে রাখবারও আমার উপায় নেই - শিশু যেদিন প্ৰথম পৃথিবীর আলোয় চোখ মেলে, সে তিনি হাত বাড়িয়ে আমায় কোলে নিতে গেলেন জাৰি ৰসে আনন্দের মাঝখানেই জেগে ওঠে আমার সে মায়ের গলা আরো জোরে চেপে জড়িয়ে ধরলাম। মাজের খৰ জাগরণের দিনেও কিন্তু কেউ আমাকে আনন্দে বরণ চোখের জল আমার মাথার উপর করে করে পড়তে দাখিল । ফয়ে দেয়নি। যার কোলে আমি এসে পড়েছিলাম শুধু জগৎ বলে আমি আমার মাকেই জানতাম। সেই আমার সেই আদায় কোল দিয়েছিল, কিন্তু তাও চোখের জলে জগৎ, আমার বিশ্ব যে আমার চোখের জলে বিদায় দিতে স। সেই মারের কোলই ছিল আমার সমস্ত জগৎ । এসেছে, তা গুই তত্ব বয়সেই আমি বুঝেছিলাম। জন্ধে একটি বন্ধনই আমােৱ সংসারের সঙ্গে বেঁধে রেখেছিল। অবধি যে অভাগিনী মা ছাড়া আর কারো কোলে বায়নি, জয় জগতে অসংখ্যা। কে ধন যাদের সঙ্গে তাৱা আজ তাকে আদর করে কেউ বুকে তুলে িনতে এলে ত আছেই, আৰাৱ আনন্দের ভিতর দিয়ে বিশ্ব তার কাছে তার সংশয় হবেই। তার উপর আবার মায়ের চোখে লপে ধরা দেয়। শিশু-সাটের কাছে স্বেচ্ছা দাস-খত জল । আমি সেই কান্না দেখেই ফায়া পুষ্ক করে দিলা ।