পাতা:প্রবাসী (সপ্তদশ ভাগ, প্রথম খণ্ড).pdf/২৯৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্ৰবাসী—ভাদ্র, ১৩২৪ ১৭শ ভাগ ১ম খণ্ড ৫ম সংখ্যা ] দুই তার দাদেবী স্বামীর অকস্মাৎ দয়ার পরিচয়ে সঙ্গোকুল দয়াদেবী দীৰ্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া বলিলেন— গুটি অামারই গুণময় অগ্রসর হইয়া গিয়া রাজবালার চিবুক ধরিা নত দুই তার হইয়া বলিয়া উঠিলেন— ব্লাজুও এসেছে বুকি ? ছেলে মাসিমা । বীর, তোর দিদিমাকে পেলাম কর মুখ তুলিয়া মুখ নেত্ৰে তাহাকে দেখিতে লাগিলেন । ( ১০ জামাইএর আমার দয়ার শরীর। তিনি রায় বেিয় ধীরেনের চমক ভাঙিল; সে অপ্ৰতিভ হইয়া তাড়াতাড়ি রাজবালার না চাপা গলায় ঘোমটার মধ্য হইতে দয়াদেবী একদিন বীরেনকে বলিলেন— বাবা, তোর কি দিয়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন । রাজু, তোর দিবি া রাজবালার পায়ের কাছে ঢিপ করিয়া এক প্ৰণাম করিল । বলিলেন—এখন অামার জাত ধৰ্ম্ম সৰ তোমায় হাতে এনে কলেজ খুলে গেছে ?.... তুই কবে কলকাতা যাবি ? পদ্মা ক । জেনােলা দ্বিগুণ লজ্জায় লাল হইয়া পিছু হটিয়া গেল দিলাম বাবা । নিজের মেয়ের কথা নিজের মুখে বলতে ধীরেন দয়াদেবীর পায়ে হাত বুলাইতে-লাইতে বলিণ মায়ের পশ্চাৎ হইতে অগ্রসর হইয়া গিয়া প্লাজমালা দয়াদেবী বলিনে— বঁীকৃ, তোর দিদিমাদের বসতে দে নেই ; তবে আপনার লোক, দেখতেই ত পােছ বাৰা, তোমায় একলা ফেলে অামি কেমন করে যাব মন শয্যাশানিী দয়াদেবীর পায়ের ধূলা লইল । ধীরেন তাড়াতাড়ি শ্বেতপাথরের মেলের উপর একথানা রাস্তু আমার দেখতে শুনতে মন্দ নয়, ঘরকার সব কাজক আমার জন্তে তোর ভাবনা ? অামার ত শেষ হয়ে দয়াদেবী হাত বাড়াইলেন, রাজবালা কাছে সরি স্বাপেটি বিছাইয়া দিল জানে, হোবপুরে খিষ্টানদের মেয়েস্কুলে লেখাপড়া এসেছে বাবা ; এই মড়া জাগলে থেকে তুই নিজের গেল । দয়াদেবী তাহার চিবুক স্পৰ্শ করিয়া চুম্বন করিমো রাজবালার মা তাহাতে বসিয়া ভাবিলেন এই ছেলেটির সেলাই গানবাজনা সবই শিখেছে, ঠাণ্ডা নম্ৰ, তা যাহা পরকাল নষ্ট করিসনে তারপর মাসীকে বলিলেন মাসী, অামার ত ওঠবার শক্তি স্বাদ রায়ুর বিহে দেবার জন্যেই জামাই রাজুকে আনিয়েছেন হয় ! কিন্তু হলে কি হবে বাবা, আজকাল ত মেয়ে আমনি যদি তোমা দেখবার কেউ থাকত, আমি নিশ্চিত নেই, পায়ের ধূলো দাও খেছি। তা দিবি ছেলেটি । রাদুর শিবপূজা সাৰ্থক বিকায় না; তুমি দয়া করে যখন তার নিয়েছ, তখন আদি হয়ে যেতে পারতাম । কিন্তু কেউ ত একটি বারও তোমায় মাসী অভিমানের স্বরে বলিয়া উঠিলেন—থাক, বাছা হেল এতদিনে নিশ্চিন্তি হয়েছি। ঐ ছেলেটিকে পাত্তর ঠিক করেছ বুকি দেখতে অাসেন না । অমনিই আশীৰ্ব্বান করছি বীরেনকে দয়াদেবী বলিলেন এইবার তুই আহা ! দিব্যি ছেলেটি সেই কেউট যে কে তাহা দয়াদেবী বুঝিলেন ; ধীরেন যতক্ষণ মাসীবোনকিতে আলাপ হইতেছিল ততক্ষণ যা ; মাসিম এসেছেন আর ভাবনা কি ? রাজবালা চকিতে একবার চোখ তুলিয়া বীরেনের দিকে য হার জন্যই শুধু এ বাড়ীতে আবদ্ধ হইয়া আছে তাহ ধীরেন দয়াদেবীর শিরের কাছে থাটের দাণ্ডা ধৰিয় বীরেন বড় জোরে দীৰ্ঘনিশ্বাস থেলিল । চাহিল ; ধীরেন তখন ব্যাধীত হরিণের মতন দাশাসে গুণময়ের উপর বীরনের বিরাগ হইতেও তিনি বুঝিলেন অবাক মুগ্ধ হইয়া দাড়াইয়া ছিল, তাহার চক্ষে পদক পতি দাদেবীর মাসী জিজ্ঞাসা করিলেন—দয়া, তোর মেয়ে .…… বড় বড় চঞ্চল চোখে- গুণময়ের দিকে চাহিতে চাহিতে তাই সালেী বাথিত -যে পুরুষমা স্বরে বলিলেন - তিনি ছিল না, তাহার হৃদয়ে সৌন্দৰ্য্য-দৰ্শনের আনন্দ ধরিতেছিল এমন সময় সকলকে অবাক করিয়া দিয়া গুণময় হইতে পলায়ন করিতেছে বাবা ; তাদের ঢের কাজ ; মেয়ো কু রোগে শোকে না, সে একদৃষ্টি দেখিতেছিল রাজবালাকে । কুসুম-লক্ষ্মীর সৱে প্ৰবেশ করিলেন গুণময় গান করিয়া ডাকিলেন— রে ধীরে আহা-করবার তাদের সময় নেই।.. মোহিনী আছে আমায় যেীবনলীলার মতন অনুপম লাবণাময়ী এই বে। কিশোরীর রাজবালার মা তাড়াতাড়ি মাথার ঘোমটা টানিয়া বীরেন্দ্ৰ স্নাদের খাড়ার নীচে পরমুহূর্তে মৃত্যুর প্রতীক্ষায় দেখবে, তুই একটা তারো দন দেখে কলকাতা চলে যা৷ সৰ্ব্বাঙ্গে বসন্ত-দৰ্শনে আনতি বনশ্ৰীৱ মিতহাস্তে ভাৰ চাপা গলায় বলিলেন—ওমা! পামাই ! স্না, তো অপেক্ষমান দণ্ডিতের স্থায় আড়ষ্ট হইল ফিরিয়া বাড়াই এমন সময় ঘরে একজন বিধবা ও হার পশ্চাতে একটি সলজ হাসি জড়াইয়া আছে তাহা বীরেক্সের মৰ্ম্ময়ে খাদাইদাদাকে পেয়াম কর । বাল—“আক্তে ? একজন যেীবনোমুখী কিশোরী আসিয়া প্ৰবেশ করিল। গিন্ধু। জ্যোৎস্না-প্ৰলেপের মতন লাগিতেছিল ; ব্ৰাজবালা দেখিল একজন অতি কালো অতি বেঁটে —খনো কলকাতা ঘাসনি যে বড় ? দয়াদেবী বিধবাকে দেখিয়াই অভিমানের কৃষ্ট স্বরে দুঃাভিহত জীবন-বীণার মধেরা তার আজ যেন সকল তি মোটা লোক ! তাহার হাত-পাগুলি থাটো-থাটো, ধীরেন শুকণ্ঠে তাড়াতাড়ি বলিল—আজে কাল যাৰ। কলিয়া উঠিলেন—াসিম, তুমি এলে কেন ? তোমাকে ত জীৰ্ণতা হইতে মুক্ত হইয়া জন্মসাৰ্থক-করা আনন্দ-রাগিীতে , গাটি ছোটো, ভূড়িটি বিপুল । পুব বড় খোচা-খোচা বীরেন পলায়ন করিলে, গুণময় বলিলেন–রার জন্যে আমি আসতে লিখিনি । বাজিয়া উঠিয়াছিল তাহার অন্তরের যৌবন-মুকুল এই গো ; মাথায় টাকা পড়িবার পরোয়ানা জারি হইয়াছে ! আমি খুব ভালো পাত্তর ঠিক করে রেখেছি মাসিমা ।াকে আগক বিধবাটি অভিমানে গুহ্মস্বরে বলিলেন—তুমি নবোদিত আলোক-রেখাটির স্পৰ্শ পাইবার জন্য উন্মুখ হইয় এই নাকি তাহার দয়া-দিদির বহু তাহাকে দেখিয়া একেবারে রাজরাণী করে দেবো ! সে-সব কথা পয়ে হবে। স্বাসার তেমনি মেয়েই বটে বাছা! নিজে রাজরাণী তয়ে , উঠিল; তাহার সমস্ত প্ৰাণ মন হৃদয় ীেবন বলিহা উঠিল জালার অত্যন্ত হাসি পাইতে লাগিল। রাজবালা চকিতে এখন হাতমুখ ধুৱে কাপড় ছেড়ে জপটপ করে একটু জল গরিব দুঃখী মামাসীদের কি আর মনে পড়ে । মেয়েটা তোমারই অপেক্ষায় আমি ছিলাম কৰা সকলের মুখের দিকে চাহিয়া দেখিয়া লইল, আর খেয়ে ঠাণ্ডা হোন স ব্লাজু, তোমার থাকায় যাট ভােগর হয়ে উঠছে বলেই তোমায় স্নানিয়েছিলাম ধীরেনকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকাই থাকিতে দেখিয়া সকলেও হাসিতেছে কি না। কিন্তু সে দেখিল ভয়ে বারেনের সব দেখিয়ে দিগে । এমন হেনস্তা, যে, চিঠিথানার জবাব পৰ্য্যন্ত দিলে না। রাজবালার মুখও সলঙ্গ মিতহাস্তে উদ্ভাসিত হইয়া উঠি মুখ শালা হইয়া গিয়াছে; দয়াদেবী অন্যদিকে মুখ ফিরাইয়া রাজবালা চকিতে একবার মায়ের ও দয়াদেবীর দিকে জামাই আমার লক্ষেশ্বর হয়ে শতেক বছর পরমাই পান, ছিল ; সে সমুচিত হইয়া মাথা নত করিয়া দাড়াইল চোখ ছিতেছেন আর গুণময়ের মুখে হাসি দেখা দিলেও চাহিয়া মাথা নত করিয়া সিল । গুণময় তাহার হাত ধরিয়া তায় যাই দয়ার শীর, তাই তিনি আমার চিঠি কুড়িয়ে তাহাতে রাজবালার মায়ের নজর বীরনের উপর পাধি ভয়ানক দেখাইতেছে, যেন জল্লাসের খাঁড়া ধার টানিতে টানিতে আবার ডাকিলেন—এস । পেয়ে সব জামতে পেরে আমাদের জানতে লোক পাঠিয়ে- সেই ব্লগের সুকুমার ছেলেটিকে মুগ্ধনে রাজা জিৰাল ভয়ে-ভয়ে দূর হইতে প্ৰণাম করিল। জিবালার মা মেয়ের গায়ে ঠেলা দিয়া চাপা গলা ছিলেন। নইলে কি আমি তোমার বাড়ীতে মেয়ে নিয়ে চাহিয়া থাকিতে দেখিয়া তিনি দয়াদে গুণময় গদগদভাবে বলিয়া উঠিলেন—থাক থা বলিলেন—যা না আনি বেচে এসেছি বাছা দয়া, এই ছেলেটি ? ধৰি মেটে ত রাজবালা নিতান্ত অনিচ্ছায় গুণময়ের সঙ্গে উঠিয়া গেল । ।