পাতা:প্রবাসী (সপ্তদশ ভাগ, প্রথম খণ্ড).pdf/৩৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঋতুসংহার প্ৰবাসী উপস্থিত হইলাম, শুনিলাম ইহা শতক্ষু নদী। শতদ্ৰ এ দেশে জন্মগ্ৰহণ করিয়া সিদ্ধনদে গিয়া পড়িয়াছে। সঙ্গীরা বলিল মানস-সরোবয়ে ইহার জন্ম হইয়াছে। আমি বলিলাম তাৰা সম্ভব নয়, মানস-সরোবরের নিকটস্থ পৰ্ব্বতে ইহার জন্ম। শত রে রাত্ৰিবাস করিয়া পানি সে অঞ্চলের সি তীৰ্থ দেখিতে গেলাম, তাহার নাম প্ৰতভূমি ী য়া উচ্চারণ করে “রেতভূমি’। প্ৰেতভূমি দেখার দাবা, দাবার বাবা, আর একটি স্ত্ৰীলোক ও আমি আবার ধাক্কা করিলাম। পথে অনেক নদী দেখিলাম তাহান্তে বরফের চাই ভাসিয়া আসিতেছে । সেই সব নদীর কোন কোনটা আমাদেয় পার হইতে হইল। আবার সেই বরধ-জলে আমার সঙ্গীরা অনায়াসে পার হইয়া গেল ঠিতীয় শরীরে তার আমার শরীরে অনেক প্ৰভেদ । তাহাঁদের তুলনায় দৈহিক শক্তিলামধ্যে আমি অত্যন্ত হীন দীপায় হইয়া আমার দেহ অবশ হইয়া গেল। সঙ্গীদের বসিলাম তোমরা যাও, আমি আর সঙ্গে চলিতে পারিব একঘণ্টা দেহের পরিচ্যার পর ধাত্ৰা করিয়া মাইল গিয়া অদূরে এক অতি সুন্দর মন্দির দেখিলা পোনশ্ৰেণী যুৱ হইতে একসার রেলের গাড়ীর মত দেখাইতেছে। এ দেখে এক-রকম পাৰ্থী আছে; রেলগাড়ীর মত শিস দেয়, চীৎকার করে আজ তাই খাবার হঠাৎ সভ্যদেশ ও তােহাৱা রেলগাড়ীর কথা আমার মনে ভারী রোদ, “ৰুড়-কাড়, ডাঃ ডাল, ‘মড় মড়, গাছ ভরা আম-জাম হাত পাথা, পুব ঘাম ভোর বেলা ‘মাতা’, উরি আমতা আশ্বিন, ১৩২৪ ( ক্ৰমশ শ্ৰীহেমলতা দেবী [ ১৭শ ভাগ, ১ম খণ্ড তল-ভরা জ্বল কদমফুল-বাস, বাঙে কোলাহল কেমন-যেন মন, আপন যেন পর ; কিসের-ঘন দুখ, আঁখি ঝর-র শরৎ খাল বিল ভরপুর প্ৰাণমন সুর ; দশদিক সুন্দর ফিফাট অন্দর ধাপ-মার বউ-কার শিউলি-করণ, মধুর তপন সবু শোভা, সুনীল গগন রাতে শিশির, দিনে গরম জ্যোৎস্নানিশিৱ বেজায় গরম ! পাকা ধানের গঙ্গ মিঠে নানান বাড়ী নানান পিঠে । সোনায় ভরা উঠান-গোল ভোরে পাতায় শিশির-ঝোলা শুনো তত্ব, শুকনো পাতা বুড়ো-বুঢ়ীর ঢাকা মাথা বসন্ত মুহামু 'কু-কুহু’ পরাণ-চাওয়া উহু-উহু’ নানান্‌ ফুল, টাটুকা মন, মিঠে হাওয়া, মিঠে ভুবন শ্ৰী যতীন্দ্ৰগ্ৰসাদ ভট্টাচাৰ্যা ৬ষ্ঠ সংখ্যা] দুই তার বলেন, সেও ভয়ে-ভয়ে সরিয়া পড়ে এবং রাজৰা ই বার উপক্ৰম করিলেই তিনি পথ আগলাইয়া হাত দিয়া ( ১৩ ) বীরেন কণ্ঠস্বরে আদর গলাইয়া বলেন- ‘ব্লাজু, তুমি যেয়ে৷ মা ছিলনা কম্বিা চারদিন কলিকাতা ধাওয়া স্থগিত প্ৰাণেশ্বী! শুনিয়া রাজবালা লজ্জায় রিয়া বাৱ । লে প্রিয়াছিল যে আশায়, তাহা তাহার জাগো পূৰ্ণ হইবার মোহিনীর কাছে আশ্ৰয় লইয়া দেখিল, মোহিনী বাবুকে কোনো সম্ভাবনাই হিল না৷ গুণময় লাগে একবারও অন্ধমহলে আলিতেন না ; কাল রাজবালার আসা হইতে আসিতে দেখিা নিজেই সরিয়া পড়ে, তাহাকে যাই বলিতেও হয় না। ক্লাবালা মায়ের নিকট গেলে গুণময় তিনি দিনে রাত্ৰে খন-তখন অন্দরে আসিতেছেন এবং আসিতে দেখিয়াই হয় তিনি উঠিয়া বান রাজবালা সঙ্গ রাজবালার কাছে-কাছে থাকিতেছেন । ইহাতে ধীরেন লইলে তিনি তিরস্কার করেম ; নয় ত তিনি রাজবালাঙ্কে মাজবালার কাছে ঘোঁসিতে ত পাইতেছিলই না, অধিকন্তু চাপা তিৰস্কার করিতে-করিতে ক্ৰমাগত ঠেলি চিষ্টি শিকারীর ভয়ে হরিণের মত বেচারাকে সৰ্ব্বণী যেন কান কাটিয়া গুণময়ের কাছে যাইতে রলেন। বারেনের কাছে বাড়া করিয়া রাখিয়া এগৰ হইতে সে ঘর ও সে-হইতে -ঘর্য রাঙ্গালার জাহাকে থাকিতে খুব ইচ্ছা হইলেও সে আর -গর পলাইয়া পলাই লুকাইয়া বেড়াইতে হইতেছিল । বড় একটা দেখিতেও পায় না ; বুলিতে পারিতেছিল সে দয়াদেবী শব্যাগত হইয়া পড়া অবধি রাজবালার যে বীরেন ও গুণমন্থে ভঙ্গে পলাইয়া পলাইয়া লুকায়া স্বাসার আগে পৰ্য্যন্ত গুণময় একদিনও একটিবারও মুমু ফিরিতেছে, "সুতরাং তাঙ্কার কাছে আশ্ৰয় পাওয়ায় তাহার বীর ঘরের চৌকাঠ ডিঙান নাই, বা কাহাকেও তাহার আশা নাই । সে এই দুদিন লক্ষ্য করিতেছিল গুণময় যা শল জিজ্ঞাসা করেন নাই । বীরেনই এতদিন নিশ্চিন্ত দেবীর মহলের দিকে যান না ; তাহাকে বিবাহ ফরিবার নিপন্দ্ৰবে তাহার ঔষধ পথ্য দেওয়া ও সেবাশুশ্ৰষা ভার মতলব দয়াদেবীর নিকটে গোপন রাখিবার পরামর্শও সে ইয়া ছিল । এখন সে তাহার সেই পূজার মন্দিরেও হির হইয়া থাকিতে পারিতেছিল না। শুনিয়াছে ; অতএব দয়াদেবীর ঘরে আশ্ৰয় লইলে লে তাহাকে সন্ত ও চকিত দেখিয়া দুয়াদেবী আশ্বাস দিয়া বলিতেছিলেন— নিদ্ৰৰ হতে পারবে বলিয়া তাহার আশা জে ধরে তোর ডা কি ধীরেন—উনি ত আমার ঘরে কখনো লাগিল—যদি বা গুণময় সেখানেও তাহাকে অনুষয় করেন, তবু দয়াদেবীর সাক্ষাতে তাহার, সহিত প্ৰ সেন না এমন সম বাহিরে গুণয়ের চটি শব্দ শোনা গেল সম্ভাষণ করিতে তিনি পারিবেন না । কিন্তু দয়াদেী রেল উৰ্দ্ধশ্বাসে পাশের দরজা দিয়া দোঁড় নিল—আর কাছে যাইতে তাহার কেমন সঙ্কোচ লক্ষা ও ভর হাতে যাজবালার পিছনে পিছনে গুণময় আসিয়া সেই ঘরে ছিল—তাহার বিশ্বন্ধে যে হৃদয়হীন কঁঠাৱ ষড়যন্ত্ৰ ভাস্থায় প্ৰবেশ করিলেন । স্বামী ও মাসীতে মিলিয়া করিয়াছেন তাহােৱ প্ৰধান উপলক্ষ্য রাজবালাও গুণময়ের নিরস্তুর প্রণয়-নিবেদনের মালায় ত সেই । সে কোন মুখে তাহার সাহায্য গ্ৰহণ করিতে বিব্রত হইয়া উঠিয়াছিল। তাহাকে একলা পাইলেই যাইৰে ? সে চারিদিকে নিকৃপায় দেখিয়া, মাছের কাছে তিনি তাহার ভাবী বীর নিকট হইতে দাম্পত্য-প্ৰণয়ের কাদিয়া জেদ করিয়া বলি-ম, তুমি বাড়ী চল, আমি বায়না আদায় করিবার স্ন এমন ব্যস্ত হইয়া উঠিতেন ও এখানে থাকব না জবালাকে পীড়াপীড়ি করিতেন যে রাজবালা ভয়ে লজ্জায় তাহার মা বিরক্ত হইয়া ববিলেন-ই ত্ৰিভূত হইয়া কাদিয়া ফেলিত গুণময়ের সাড়া পাইলেই হছিল কেন বল ব্লাজু , ত ? কত জন্ম তপিসো করে লোকে দেএখন কোনো একজন লোকের কাছে গিয়া আশ্ৰয় তবে রাজরাণী হতে পায় লক্ষ্মী এসে তোকে সাবছেন, দয়। কিন্তু সে শীঘ্ৰই দেখিল মায়ার কাছে থাকিলে তুই ছেলেমানুষী করে হেলায় হায়াতে বলেছিল। এমন গদা আসিয়াই কাকে সেখান থেকে চলিয়া যাইতে করলে জামাইএক্স টান কদিন থাকুৰে ।