বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রবাসী (সপ্তবিংশ ভাগ, প্রথম খণ্ড).djvu/২৩০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

২য় সংখ্যা ] সত্তর বৎসর ২১৭ কোন মিষ্টারের বা ফলাদির ভেট আসিলে আর সকলকে ম) দিয়া কখনও আমাকে, তার একটুও দিতেন না । মার এই ব্যবহারে আমি কেবল চটিয়া যাইতাম তাহা নহে, কিন্তু ক্রমে আমার এই ধারণ হয় যে, ইনি আমার বিমাতা । আমার নিজের মা আমার শৈশবেই স্বর্গারোহণ করিয়াছেন । বড় হইয়াও এ সন্দেহটা একেবারে যায় নাই । তখন মা একদিন আমাকে ডাকিয়া কাছে বসাইয়া বুঝাইয়া দিয়াছিলেন। র্তার কথাগুলি কতকটা এখনও আমার মনে আছে । মা কহিলেন “এখন তুষ্ট বড় হইয়াছিস, এখনও কি বুঝিবি না, কেন আমি তোর আগে অপর ছেলেদের যত্ন ও আদর করি । তাদের মা এখানে নাই । আমার আদর-যত্বে একটু ক্রট হষ্টলে তাদের প্রাণে কত লাগিবে । তোমাকে ইচ্ছ। করিলে ৪ আমি অযত্ন করিতে পারি না । তাহীদের অযত্ব হওয়া অতি সহজ ।” আমি কহিলfম—“ত যেন হ’ল । কিন্তু কৃপা ( আমার ছোট ভগিনী ) যত যত্ন পায় আমি ত তাও পাই না। আমার আগে কৃপা সৰ্ব্বদাই থাইতে পায় কেন ?” মা কহিলেন—“এসংসারে যা আছে সকলি তোমার ও তোমারি থাকিবে । কৃপা ত দু’দিন পরে পরেব ঘরে চলিয়া যাইবে । এও কি বুঝ না ?” যখন ইহা বুঝিলাম তখন মাকে একথা বলিবার অণর অবসর পাইলাম না । ( ১৭ ) আজিকালি বাংলার তথাকথিত ভদ্র হিন্দু সমাজে আহারে ব্যবহারে জাতিবিচার উঠিয়া গিয়াছে বলিলেও অতু্যক্তি হইবে না। যাট বৎসর পূৰ্ব্বে কলিকাতাতেও এবিষয়ে এতটা উদারতা বা ঔদাসীন্য দেখা যায় নাই । শ্ৰীহট্টের মতন প্রাস্তিক জেলায় জাতের খুবই কড়াকড়ি ছিল । ওবে আমাদের সমাজে কোনওদিনই যে বিশেষ ভাযে ব্রাহ্মণ-প্রভুত্ব ছিল এমন বোধ হয় না । আমার বাল্যে শ্ৰীহট্টের হিন্দু সমাজে উচ্চশ্রেণীকে “ব্রাহ্মণ-ভদ্রলোক” কহিত । কলিকাতা অঞ্চলে যে-অর্থে ব্রাহ্মণ-কায়স্থের গ্রাম কথাটা ব্যবহৃত হয় সেই অর্থে আমার বাল্যকালে &br—o আমাদিগের মধ্যে “ব্রাহ্মণ-ভদ্রলোকের” গ্রাম এই কথা ব্যবহৃত হইত। ভদ্রলোক বলিতে আমরা কায়স্থ ও বৈদ্যকেই বুঝিতাম। ব্রাহ্মণ ইহাদিগের হইতে স্বতন্ত্র এই ভাবটাই ছিল । কিন্তু ইহারা যে, কায়স্থ বৈদ্য হইতে শ্ৰেষ্ঠ এই ভাবট ছিল না । ইহার একট। কারণ বোধ হয় এই ছিল যে, ঢাকার এত কাছে হইলেও আমাদের অঞ্চলে বল্লালী কৌলীন্য প্রতিষ্ঠিত হয় নাই। শ্রীহট্টের ব্রাহ্মণের সকলেই “বৈদিক” । বরেন্দ্র বা রাঢ়ী ব্রাহ্মণ সে জায়গায় নাই। কিম্বা রাঢ় বা বরেন্দ্রভূমি হইম্ভে কোন ব্রাহ্মণ পরিবারের পূর্ব পুরুষ আদিতে শ্রীহট্টে গিয়া থাকিলেও নূতন সমাজে এসকল ভেদ জাগাইয়া রাখেন নাই, কিংবা রাখিতে পারেন নাই । আমার বাল্যকালে রাঢ়ী বারেন্দ্র এসকল কথা পর্যস্ত শুনি নাই । আমাদের ব্রাহ্মণের যে "বৈদিক” শ্রেণীর ইহাও জানিতাম না । ব্রাহ্মণ ব্রাহ্মণই এই মাত্র জানা ছিল । ব্রাহ্মণের মধ্যে যে আবার শ্রেণী-বিভেদ আছে ইহা সাধারণ লোকে জানিত না । তবে সকল ব্রাহ্মণের যে সকল ব্রাহ্মণের হাতে থান না ইহা জানা ছিল । শ্রাদ্ধাদি উপলক্ষে সমাজের সকল ব্রাহ্মণের যখন নিমন্ত্রণ হইভ তখন প্রায় প্রত্যেককেই স্বতন্ত্র পাকশাল প্রস্তুত করিয়া দিতে এসকল নিমন্ত্রণে কলিকাতা অঞ্চলে যাহাকে ফলার বলে তাহার ব্যবস্থা ছিল না। দই, চিড় কিংবা ভ’তেরই ব্যবস্থা হইত। ইতর শ্রেণীর জগুই দুই-চিড়ার আয়োজন হইত। উচ্চশ্রেণীর ব্রাহ্মণ বা কায়স্থ বা বৈদ্যদিগের জুলু ভাতেরই ব্যবস্থা করিতে হইত। আর তখন প্রায় প্রত্যেক নিমন্ত্রিত ব্রাহ্মণের জন্য পৃথক্ "হাড়ির* সংস্থান না করিলে চলিত না । এই যে ব্রাহ্মণের একে অস্তের হাতে খাইতেন না, ইহাতে বুঝা যায় যে, তাহাদের মধ্যেও একট। জাত-বিচার ছিল । তবে কে কোন শ্রেণীর ব্রাহ্মণ একথা সাধারণ লোকে জানিত না, এ প্রশ্নও তারা করিত না। ব্রাহ্মণের প্রায় সকলেই পৌরোহিত্য ব্যবসায়ী ছিলেন । কায়স্থ, ৰৈদ্যাদি তখন জামাদিগের সমাজে মোটামুটি শূদ্ৰ পৰ্য্যায়েই পড়িতেন। কায়ন্থের যে পতিত ক্ষত্রিয়, এ কথা তখনও উঠে নাই। শ্ৰীহট্টের বৈদ্যদিগেরও উপনয়ন সংস্কার হইত না । তারা উপবীত্ হঠত ।