বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/১০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
প্রবাস-চিত্র

এবং তাহাই তাঁহাদের এই পারিবারিক বিপত্তির কারণ। আর এক জন লোক তাহার অংশীদারকে কিরূপে ফাঁকি দিবে, একজন সুহৃদের সঙ্গে সেই সম্বন্ধে বড়যন্ত্র আঁটিতেছিল। একজন বেঞ্চে হেলান দিয়া গান গাহিতেছিল, হঠাৎ অর্দ্ধপথে গান ছাড়িয়া পার্শ্ববর্ত্তী আর এক জনকে জিজ্ঞাসা করিল, “মহাশয়! কল্কেটা একবার দেবেন?” নিকটে আর একটি তাম্রকূটপায়ী কল্কেটাতে একটা দম দিবার জন্য অনেকক্ষণ হইতে উমেদার ছিল; সে তাহার অধিকারহানির সম্ভাবনা দেখিয়া একটু রাগিয়া চোখ গরম করিয়া উঠিল; কিন্তু পূর্ব্বোক্ত গায়কবর তাহাতে ভ্রূক্ষেপমাত্র না করিয়া দুইটী উৎকট দমে কলিকাসঞ্চিত তামাকটুকু নিঃশেষ করিয়া সেই গরম লোকটার হাতে দিল, এবং পূর্ব্ববৎ গাহিতে লাগিল,—

“ঘোরা তিমিরা রজনী, সজনি,
না জানি কোথায় শ্যাম গুণমণি,
পৃষ্ঠে দুলিছে লম্বিত বেণী।”—ইত্যাদি।

 পৃষ্ঠে লম্বিত বেণী দুলার কথা মিথ্যা, তবে মস্তকে একটা অনতিদীর্ঘ শিখা দুলিতেছিল বটে, এবং গায়কবর শ্যামদরশনের জন্য কিরূপ কাতর হইয়াছিলেন, শুধু গান শুনিয়া তাহা ঠাহর করা যায় না; কিন্তু সেটি যে, ‘ঘোরা তিমিরা রজনী,’ তাহাতে আর সন্দেহ ছিল না,। গ্রীষ্মকাল, কৃষ্ণপক্ষের একাদশী কি দ্বাদশী, এবং তখন রাত্রি ১২ টা; আকাশে অল্প মেঘ করিয়াছিল, সুতরাং ভাল করিয়া নক্ষত্র