দেখা যাইতেছিল না, শুধু স্তব্ধ প্রান্তরের বক্ষ ভেদ করিয়া আমাদের গাড়ী উর্দ্ধশ্বাসে ছুটিতেছিল।
একটু ঘুম আসিল। ঘুমের বেশী অপরাধ ছিল না। নেই বেলা ১১টার সময় গাড়ীতে চড়িয়াছি, রাত্রি ১২টা পর্য্যন্ত সমভাবে বসিয়া লোকের নামা উঠা দেখিতেছি, আর কোলাহল শুনিতেছি; আহারও নাই, নিদ্রাও নাই। এতক্ষণে নিদ্রাকর্ষণ হওয়াতে যাত্রীদের গাঁটরীগুলো একটু সরাইয়া জড়সড় ভাবে শুইয়া পড়িলাম। রাত্রি প্রায় দুইটা কি দেড়টার সময়ে, নাম মনে নাই, এমন একটা ষ্টেশনে মাথার কাছে খট্ খট্ শব্দ হওয়াতে ঘুম ভাঙ্গিয়া গেল; মাথা তুলিয়া দেখি আমার কামরার দ্বার ধরিয়া একটা লোক টানাটানি করিতেছে। কামরাটী এখন নিস্তব্ধ; যে ভদ্রলোকটী শামদরশনের আশায় হতাশ হইয়া বেহাগ গাহিয়া বিরহজ্বালা মিটাইতেছিলেন, দেখিলাম, আর একটা বেঞ্চে তাঁর মুণ্ডুটা লুটাইতেছে। যুদ্ধশেষে যুদ্ধক্ষেত্রে আহত বীরের ন্যায় যাত্রিদল গাড়ীতে নানারকম ভঙ্গী করিয়া শুইয়া পড়িয়াছে। থার্ডক্লাসের গাড়ী, আলো বেশী নাই; এক কোণে উপরে একটা লণ্ঠন টিপটিপ করিয়া জ্বলিতেছিল, তাহাতে সমস্ত গাড়ী আলোকিত হয় নাই।
গাড়ীর দরজায় চাবি দেওয়া ছিল; কিন্তু যে দরজা ধরিয়া টানাটানি করিতেছিল, সে এক জন পশ্চিমদেশীয় ব্যক্তি। কিছুতে গাড়ী খুলিতে না পারায় সোর গোল করাতে এক জন পুলিসম্যান আসিয়া গাড়ীর দরজাটা খুলিয়া দিল।