উঠিয়া বসিলাম, বাতায়নপথে চাহিয়া দেখিলান, ষ্টেশনটা অতি ছোট; আমাদের গাড়ী ষ্টেশন হইতে অনেক দূরে প্ল্যাটফরমের এক প্রান্তে আসিয়া লাগিয়াছে।
দ্বার খোলা হইলে দেখিলাম, সেই লোকটী একটী যুবতীকে গাড়ীর মধ্যে তুলিয়া নিয়া তাহাকে একটু বসিবার যায়গা দিবার জন্য সবিনয়ে আমাকে অনুরোধ করিল। একটি ছোট ছেলে কোলে হইয়া যুবতী গাড়ীর মধ্যে আসিয়া বসিলে, সেই লোকটি তাহার লটবহর আনিবার জন্য স্টেশনের দিকে ছুটিয়া গেল; ছোট ষ্টেশন, গাড়ী বোধ হয় এখানে দুই এক মিনিটের বেশী থামিবার নিয়ম নাই; সুতরাং তাহার অপেক্ষা না করিয়াই গাড়ী ছাড়িয়া দিল। দেখিলাম, গাড়ী ছাড়িবামাত্র সে লোকটি আমাদের গাড়ীর দিকে দৌড়িয়া আসিতেছে, কিন্তু পাঁচ সাত হাত না আসিতেই ষ্টেশনের লোকেরা তাহাকে আটকাইয়া ফেলিল। বেচারা যদি এ দিকে দৌড়িয়া না আসিয়া নিকটে কোনও একটা গাড়ীতে উঠিয়া পড়িত, তাহা হইলে তাহার কোনও অসুবিধাই হইত না, পরের ষ্টেশনে নামিয়া অনায়াসেই আমাদের গাড়ীতে আসিতে পারিত। কিন্তু বিপদকালে অনেক বুদ্ধিমানের বুদ্ধি লোপ পায়; একজন নিরক্ষর হিন্দুস্থানী যে, এই বিপদে হতভম্ব হইয়া পড়িবে, তাহার আর আশ্চর্য্য কি?
এদিকে গাড়ী ছাড়িল দেখিয়া স্ত্রীলোকটি সেই শিশুপুত্রকে কোলে লইয়া গাড়ী হইতে লাফাইয়া পড়িবার ইচ্ছায় তাড়া-