বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/১৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
প্রবাস-যাত্রা

তাড়ি দ্বার খুলিয়া ফেলিল। গাড়ীর মধ্যে আর সকলেই নিদ্রিত। এখন আমার কি করা উচিত, তাহা ঠিক করিতে পারিলাম না। গৃহস্থের মেয়ে, হঠাৎ তাহার হাত ধরিয়া ফিরানও আমার পক্ষে কর্ত্তব্য নহে; অথচ আমি হিন্দুস্থানীভাষার যে রকম সুপণ্ডিত, তাহাতে লাফাইয়া পড়িলে তাহার কিরূপ বিপদের সম্ভাবনা, তাহা বুঝাইয়া তাহাকে নিরস্ত করাও আমার সাধ্যায়ত্ত নহে; সুতরাং অগত্যা “কুচ ভয় নেহি,” “নেহি নামো” ইত্যাদি দুই চারিটা স্বরচিত হিন্দুস্থানী কথায় তাহাকে নিবৃত্ত করিবার চেষ্টা করিলাম, সঙ্গে সঙ্গে গাড়ীর দরজাটা সজোরে ধরিয়া রহিলাম। স্ত্রীলোকটি উচ্চৈঃস্বরে কাঁদিতে লাগিল। আমাদের ও আমাদের পাশের কামরার দুই চারি জন হিন্দুস্থানী ঘুমাইতেছিল, স্ত্রীলোকের ক্রন্দনশব্দে তাহারা উঠিয়া পড়িল; সকল কথা শুনিয়া তাহারা কিংকর্ত্তব্যসম্বন্ধে নানাপ্রকার অভিপ্রায় ব্যক্ত করিতে লাগিল; এক জন একটা অভদ্রোচিত রসিকতা করিতেও ত্রুটী করিল না; যদিও তাহার সমস্ত রসিকতাটুকুর অর্থ আবিষ্কার করা আমার সাধ্য হয় নাই, তথাপি যতটুকু বুঝিলাম, তাহাতে আমার সর্ব্বশরীর জ্বলিয়া গেল; কিন্তু উপায় নাই, সুতরাং প্রশান্তভাবে সেই নীচ রসিকতাটুকু পরিপাক করিতে হইল। মনকে প্রবোধ দিলাম যে, ছোটলোকের কাছে ইহা অপেক্ষা আর কি বেশী আশা করা যায়? “চোরা না শুনে ধর্ম্মের কাহিনী,” সুতরাং ধর্ম্মজ্ঞানসঙ্গত দুই একটা উপদেশবাক্য প্রয়োগ করাও বাহুল্য বোধ করিলাম।