অনেক কষ্টে স্ত্রীলোকটিকে শান্ত করিয়া বসাইলাম; সে কাঁদিতে লাগিল। একে আমি হিন্দুস্থানী ভাষা বুঝি না, তাহার উপর সে কাঁদিতে কাঁদিতে জড়াইয়া জড়াইয়া যে সকল কথা বলিতে লাগিল, তাহার একবর্ণও আমি বুঝিতে পারিলাম না। এইমাত্র বুঝিলাম যে, সে ভাগলপুরের ওপাশে বরিয়ারপুর ষ্টেশনে নামিবে। বরিয়ারপুরের নিকটে তাহার বাপের বাড়ী; যে পুরুষটি গাড়িতে উঠিতে পারে নাই, সে তাহার বড় ভাই। আমি তাহাকে আশ্বাস দিয়া বলিলাম, তাহাকে বরিয়ারপুরে নামাইয়া রাখিয়া যাইব। আমার সকল কথা বুঝিতে না পারিলেও যুবতী এটুকু বুঝিল যে, আমি তাহার শুভানুধ্যায়ী। যুবতীর কোলের ছেলেটি তিন চারি মাসের বেশী হইবে না। স্ত্রীলোকটিকে বিশেষ ব্যাকুল দেখিয়া তাহার ছেলেটিকে আমি কোলে লইয়া বসিলাম; তাহাকে দেখিয়া আর একটি ক্ষুদ্র সুন্দর শিশু ও তাহার স্নেহময়ী মাতার কথা আমার মনে পড়িয়া গেল—তাহারা আর এ পৃথিবীতে নাই। আমার ক্রোড়ে আসিয়া শিশুটি হাত পা নাড়িয়া খেলা করিতে লাগিল, শেষে ঘুমাইয়া পড়িল; তখন তাহার মাতার ক্রোড়ে তাহাকে অর্পণ করিলাম।
এদিকে প্রত্যেক ষ্টেশনে গাড়ী থামে, আর আমি মুখ বাড়াইয়া নিই, যদি সেই লোকটি টেলিগ্রাম করিয়া থাকে। ভাগলপুর পার হইয়া গেলাম, তবু কোনও সংবাদ পাওয়া গেল না। ক্রমে গাড়ী বরিয়ারপুর ষ্টেশনের নিকটবর্ত্তী হইল।