বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/১৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
প্রবাস যাত্রা

আমার মনে নানা রকম ভাবনা আসিতে লাগিল। এই সুন্দরী যুবতীকে একাকিনী ষ্টেশনে নামাইয়া দেওয়া কর্ত্তব্য কি না। এই রাত্রে যদি সে পথ চিনিয়া যাইতে না পারে, ষ্টেশনের লোকেরা যদি এই অসহায়া যুবতীর উপর কোনও প্রকার অত্যাচার করে, তাহা হইলে উপায় কি? অনেক চিন্তার পর স্থির করিলাম, আমি বরিয়ারপুর ষ্টেশনে নামিব। চির দিন নিজের সুখ সচ্ছন্দতা খুঁজিয়া আসিয়াছি। সে সমস্ত শেষ হইয়াছে, এখন আর সে জন্য চিন্তা নাই; এখন এক বার দেখা যাক্, পরকে একটু সুখী করা যায় কি না।

 স্ত্রীলোকটির কাছে আমার অভিপ্রায় ব্যক্ত করিলাম। সে আশ্বস্ত এবং সানন্দ মনে আমার পা ধরিয়া কৃতজ্ঞতা দেখাইতে গেল; আমি তাহাকে নিবৃত্ত করিলাম।

 বরিয়ারপুর ষ্টেশনে গাড়ী থামিল। ষ্টেশন ছোট। স্ত্রীলোকটির ভাই এখানে টেলিগ্রাম করিয়াছিল, কিন্তু ষ্টেশনের লোকেরা, ব্রেকভ্যানের দিক হইতে অনুসন্ধান আরম্ভ করিয়াছিল, কাজেই তাহারা আসিতে আসিতে আমি গাড়ী হইতে নামিয়া পড়িলাম, এবং যুবতীকেও নামাইলাম। ষ্টেশনমাস্টার আসিয়া আমাদের তারের খবরের কথা বলিল।

 ষ্টেশনমাষ্টার লোকটার একটু ইংরাজী বলিবার সখ ছিল; কিন্তু কথাবার্ত্তায় তাহার যেরূপ বিদ্যার দৌড় দেখিলাম, তাহাতে তাহার এ সখটুকু না থাকিলেই ভাল হইত। কিন্তু অনেক লোকই আপনাকে সামান্য বলিয়া মনে করে না, সুতরাং এ বেচারীরও দোষ দেওয়া যায় না। সে ইংরাজীতে