বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/১৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
প্রবাস যাত্রা
১১

দণ্ড চলিবার যো নাই। রাত্রি প্রায় শেষ হইয়াছিল, সুতরাং আমি ইচ্ছা করিলাম, ষ্টেশনে বসিয়াই অবশিষ্ট রাত্রিটুকু কাটাইয়া দিই, সকালবেলা যুবতীকে তাহার পিত্রালয়ে পঁহুছাইয়া দিব। কিন্তু স্ত্রীলোকটি আমার অভিপ্রায় শুনিয়া কান্নাকাটি আরম্ভ করিল, সঙ্গে সঙ্গে তাহার শিশুটিও কান্না যুড়িয়া দিল। অগত্যা আমি আমার পোর্টম্যাণ্টোটি ষ্টেশনমাষ্টার মহাশয়ের জিম্মায় রাখিয়া তাহাদের সঙ্গে রওনা হইলাম। এবার যুবতী আমাকে পথ দেখাইয়া চলিল। অনেক রাত্রে জ্যোৎস্না উঠিয়াছিল। পাতলা মেঘের ভিতর দিয়া সেই জ্যোৎস্না ঘুমন্ত মাঠের বুকে আসিয়া পড়িয়াছে। দূর বনে অল্প অল্প কি নড়িতেছে। দুই একটা পাখী মধ্যে মধ্যে ডাকিয়া উঠিতেছে, এবং পূর্ব্বাকাশ পরিষ্কার হইয়া আসিয়াছে। আমরা দুইটি প্রাণী গ্রাম লক্ষ্য করিয়া দ্রুতপদে চলিতে লাগিলাম। শুনিয়াছিলাম রাস্তা প্রায় এক ক্রোশ, কিন্তু চলিতে চলিতে পা ব্যথা করিতে লাগিল, তবুও রাস্তা শেষ হয় না। আমার সন্দেহ হইল, যুবতী বুঝি পথ ভুলিয়াছে। তাহাকে সে কথা বলিলাম, সে হাসিয়া বলিল, “লড়কি কি কখন বাপের বাড়ীর পথ ভোলে?”—এতক্ষণ পরে তাহার মুখে হাসি দেখিয়া আমার মনে আনন্দ হইল।

 আমরা যখন যুবতীর পিত্রালয়ে পঁহুছিলাম, তখন ভোর হইয়াছে, তবে চারি দিক বেশ পরিষ্কার হয় নাই। ডাকাডাকি করিতে সকলে উঠিয়া পড়িল। একজন অপরিচিত বাঙ্গালী বাবুর সঙ্গে মেয়েকে আসিতে দেখিয়া তাহারা অবাক্ হইয়া