আমার দিকে চাহিয়া রহিল। তাহার পর মেয়েটি যখন সংক্ষেপে আমার পরিচয় প্রদান করিল, তখন, তাহাদের উপকারের জন্য আমি নিজের কাজ ক্ষতি করিয়া এতটা কষ্ট স্বীকার করিয়াছি শুনিয়া, তাহারা প্রাণ খুলিয়া আমাকে ধন্যবাদ প্রদান করিতে লাগিল। যুবতীর বাপ এক জন অশীতিপর বৃদ্ধ; কৃতজ্ঞতাভরে, সে আমার হাত জড়াইয়া ধরিল। আমি আমার সেই সৃষ্টিছাড়া হিন্দুস্থানী ভাষায় তাহাদিগকে পরিতুষ্ট করিলাম; বলিলাম, আমার কোন ক্ষতি হয় নাই, তোমাদের যে উপকার করিতে পারিয়াছি, তাহাতেই আনন্দিত হইয়াছি। ভদ্রলোকে যে এ রকম উপকার করে, তাহা তাহাদের বিশ্বাস ছিল না। ভদ্রলোকের ভদ্রতাতেও লোকের অবিশ্বাস, এ কতকটা বিস্ময়ের কথা বটে! আমি বড় ক্লান্ত হইয়াছিলাম, সমস্ত রাত্রি জাগরণ, তাহার উপর এই পরিশ্রম, বিশ্রামের জন্য একটা বিছানা চাহিলাম; তাহারা তাড়াতাড়ি আমার জন্য একটা শয্যা রচনা করিয়া দিল; বিনা বাক্যব্যয়ে আমার শয়ন ও নিদ্রা।
জাগিয়া দেখি, রোদে সমস্ত আঙ্গিনা ভরিয়া গিয়াছে, বেলা তখন প্রায় দশটা। আমি যেখানে শুইয়াছিলাম, সেখানে আর কেহ ছিল না, কিন্তু এত বেলা পর্য্যন্ত অপরিচিত স্থানে নিদ্রা যাওয়াতে কিছু অপ্রস্তুত হইয়া পড়িলাম; উঠিয়া সসঙ্কোচে বাহিরে আসিয়া দেখি, বারাণ্ডায় সকলে বসিয়া আছে। আমাকে দেখিয়া পরিবারস্থ সকলে সসম্ভ্রমে উঠিয়া দাঁড়াইল। আমি আর বিলম্ব না করিয়া স্নান করিয়া