বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/১৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
প্রবাস-যাত্রা
১৩

আসিলাম। স্নান শেষ হইলে দেখিলাম, যুবতীর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা আসিয়া পঁহুছিয়াছে। বেচারা ষ্টেশনে আসিয়া সকল কথা শুনিয়াছিল; কৃতজ্ঞতার চিহ্নস্বরূপ সে আমার পোর্টম্যাণ্টোটাও বহিয়া আনিয়াছে।

 সে দিন তাহারা আমাকে কিছুতেই ছাড়িয়া দিল না। তাহাদের মধ্যে অন্ততঃ আর এক দিনও বাস করিবার জন্য আমার হাত পা ধরিয়া অনুরোধ করিতে লাগিল। তাহাদের বিনয়পূর্ণ অনুরোধ উপেক্ষা করিতে আমার কিছুতেই প্রবৃত্তি হইল না। দেখিলাম, তাহারা গরীব বটে, কিন্তু হৃদয়হীন নহে। তাহাদের সংসারে অনেক অভাব থাকিলেও সেখানে শান্তির অপ্রতুল ছিল না; আমার শান্তিহীন হৃদয় এই সন্তুষ্ট ও শান্তিপূর্ণ পরিবারের মধ্যে আসিয়া যেন অনেকটা প্রফুল্ল হইয়া উঠিল। বৃদ্ধের পাঁচটি ছেলে, আর এই যুবতীই একমাত্র কন্যা। ছেলেগুলি সকলেই পিতার আজ্ঞাবহ, তিনটী ছেলের বিবাহ হইয়াছে; বৃদ্ধা গৃহিণী আছেন। বড় ছেলের সন্তানাদি কিছু হয় নাই, দ্বিতীয় পুত্রের দুইটী সন্তান। মোটের উপর বেশ সুখের সংসার।

 আহারাদির পর তাহাদের সঙ্গে একত্র বসিয়া তাহাদের সুখ দুঃখের গল্প শুনিতে লাগিলাম। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই আমি ইহাদের নিতান্ত আপনার হইয়া পড়িলাম। মেয়েরা সকলে আমার সম্মুখে আসিতে কোনও আপত্তি করিল না। এখানে মায়ের স্নেহ, ভাইয়ের সম্মান, ভগ্নীর আদর, কিছুরই অভাব দেখিলাম না। এক এক বার মনে হইল, এই নিরক্ষর