বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/২৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
গুরুদ্বার
১৭

সমগ্র ভারত আভাময় করিয়া তুলিয়াছিল, অপক্ষপাত লেখকের লেখনীমুখে তাহার বর্ণনা পাঠ করিয়া, আমাদের এই দুর্ব্বল অসাড় হৃদয়ে মৃদু কম্পন উপস্থিত হয় বটে, কিন্তু প্রতীচ্য ভূখণ্ডের স্বাধীনতার গৌরব স্বরূপ “মারাথান” ও “থর্ম্মপালী” স্বাধীন য়ুরোপীর জাতিগণের হৃদয়ে যে বরণীয় আসন লাভ করিয়াছে, স্বাধীনতার যেরূপ মহাতীর্থরূপে পরিগণিত রহিয়াছে, আমাদের দেশের মারাখান ও থর্ম্মপালী, আমাদের সুপবিত্র পুণ্যতীর্থ হলদীঘাট, রামনগর ও চিলিয়ানওয়ালাকে আমরা এখনও সেরূপভাবে গ্রহণ করিতে পারি নাই।

 আমি ইতিহাসের পাঠক নহি; যতক্ষণ ইতিহাস পড়িব, ততক্ষণ ঘুরিয়া বেড়াইলে আমার লাভ আছে; কিন্তু আমি যেখানে থাকিতাম, পাঠ না করিলেও সেখানে অনেক ঐতিহাসিক ব্যাপার নয়নগোচর হইত; এবং সেই সকল ব্যাপার একত্র লিপিবদ্ধ করিলে, একখানি সুবৃহৎ সুন্দর ইতিহাস প্রস্তুত হইতে পারে। প্রতিদিন যে সকল কীর্ত্তিচিহ্ন আমার নয়নপথে পতিত হইত, আমি তাহা উপেক্ষা করিতে পারিতাম না; “ওটা কি একটা ছিল” এই টুকু মাত্র বলিয়াই অনেকের কৌতুহলবৃত্তির পরিতৃপ্তি হইতে দেখিয়াছি; কিন্তু এই বীরভূমির লুপ্তগৌরবের নীরব শ্মশানে দাঁড়াইয়া আর শুধু “ওটা কি একটা ছিল” বলিয়া নিবৃত্তি হওয়া যায় না, ঘুরিয়া ঘুরিয়া তন্নতন্ন করিয়া সমস্ত দেখিতে ইচ্ছা হয়; এবং সমস্ত দেখা শেষ হইলে একটা উচ্চ দীর্ঘশ্বাস ধীরে ধীরে হৃদয়ের নিভৃত প্রদেশ