বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/২৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৮
প্রবাস-চিত্র

হইতে বহির্গত হইয়া শূন্যে মিশাইরা যায়, চক্ষুপ্রান্ত আর্দ্র হইয়া আসে। পঞ্চনদের প্রাচীন গৌরব অধিক নাই; এই বিস্তীর্ণ প্রদেশের উপর যে যুগব্যাপী অন্ধকারপূর্ণ রাত্রি আধিপত্য করিতেছিল, মধ্যযুগের শেষ প্রান্তে তাহার অবসান হয়, এবং ধর্ম্মবীর নানক তাহার শুকতারা। দেখিতে দেখিতে যেন ঐন্দ্রজালিকের মন্ত্রবলে চতুর্দ্দিক আলোকপূর্ণ হইয়া উঠিল, এবং পঞ্চনদবাসিগণ দীর্ঘনিদ্রার পর জাগ্রত হইয়া কঠোর কর্ম্মক্ষেত্রে প্রবেশ করিল। সে আজ কয় দিনের কথা। কিন্তু অতি অল্প কালের মধ্যেই সে সূর্য্য অস্তমিত হইল; শুধু একটা সুখের স্মৃতি, এবং অতীত গৌরবের চিহ্ন চতুর্দ্দিকে পড়িয়া রহিয়াছে; তাহা দেখিলে হৃদয় ব্যথিত হয়।

 কিন্তু আমি যে ক্ষুদ্র কাহিনী বলিতে যাইতেছি, ইতিহাসের বিষয় হইলেও, প্রচলিত ছাপার বহিতে সে সম্বন্ধে অধিক কথা দেখা যায় না। মনে হয়, একখানিমাত্র পুস্তকে এ সম্বন্ধে সামান্য উল্লেখ দেখিয়াছিলাম; সুতরাং বিষয়টী অধিকাংশ পাঠকের নিকট কিঞ্চিৎ চিন্তাকর্ষক হইবে, এরূপ আশা বোধ করি দুরাশা নহে।

 দেরাদুন সহরে ভ্রমণ করিতে বাহির হইলেই বাজারের নিকট একটা সুবৃহৎ মন্দির সর্ব্বপ্রথমে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। একটা মন্দির বলিলে ঠিক পরিচয় দেওয়া হয় না, এবং হঠাৎ দেখিলে ইহাকে মন্দির বলিয়া মনে না হইয়া মুসলমান বাদসাহদিগের সমাধিমঞ্চ বলিয়া বোধ হয়। মনোহর-