কথা বলিবার পূর্ব্বে রামরায় সম্বন্ধে কিঞ্চিৎ আলোচনা অপ্রাসঙ্গিক হইবে না।
যাঁহারা ভারতবর্ষের ক্ষুদ্র একখানি ইতিহাস পাঠ করিয়াছেন, তাঁহারাও অবগত আছেন, কি জন্য ধর্ম্মবীর, সাধুশ্রেষ্ট মহাত্মা নানকের মন্ত্রশিষ্যেরা কর্ম্মবীর, মহাপরাক্রান্ত দুর্জ্জেয় যোদ্ধৃজাতিতে পরিণত হইয়াছিল, এবং একটা সংসারবিরাগী, ধর্ম্মপরায়ণ, নির্ব্বিরোধ সম্প্রদায় কি রূপে কয়েক জন অবিমৃষ্যকারী মুসলমান সম্রাটের অমানুষ অত্যাচার ও পাশবিক কঠোরতায় উৎপীড়িত হইয়া সাম্প্রদায়িক ঔদাসীন্য পরিত্যাগ পূর্ব্বক, এক সুবিখ্যাত রাজনৈতিক জাতিতে অভ্যুত্থান লাভ করিল। শিখজাতির ক্রমপরিবর্ত্তনের সেই ধারাবাহিক বিবরণ ইতিহাসে আলোচিত হইয়াছে; আমরা এখানে কেবল শিখসম্প্রদায়ের আদিগুরু নানকের তেজস্বী বংশতরুর একটী শাখার ইতিহাস বর্ণন করিব।
রামরায় শিখগুরু, ইনি গুরু হরগোবিন্দ সিংহের প্রপৌত্র। যে সময়ে ভারতের অতুল ঐশ্বর্য্য এবং প্রভূত ক্ষমতার পীঠস্থান দিল্লীর রত্নসিংহাসন লইয়া, দারা, সুজা, আরঞ্জেব ও মুরাদ, পবিত্র ভ্রাতৃত্ববন্ধনের মস্তকে পদাঘাত পূর্ব্বক পিশাচের ন্যায় পরস্পরের বক্ষে তীক্ষ্ণ ছুরিকা প্রবেশ করাইবার অবসর অন্বেষণ করিতেছিল, এবং রোগক্লিষ্ট অক্ষম বৃদ্ধ সম্রাট অন্ধকারময় কারাগারের বিষাদময় কক্ষে উপবেশন পূর্ব্বক অনুতপ্তহৃদয়ে প্রতিদিন মৃত্যুকামনা করিতেছিলেন, সেই অরাজক সময়ে যিনি শিখসম্প্রদায়ের নেতা