তেজা বীরজাতি; শান্তস্বভাব ধার্ম্মিক রামরায়কে অগ্রাহ্য করিয়া, তাঁহার অন্যতম ভ্রাতা হরিকিষণকে গুরুপদে বরণ করিলেন। এই শিশু ১৩৬৪ খৃষ্টাব্দে প্রাণত্যাগ করায়, রামরায় শিখসম্প্রদায়ের গুরুপদলাভ করিবার জন্য বিশেষ চেষ্টা করিলেন, কিন্তু তাঁহার শিখসমাজে প্রবেশদ্বার চিরকালের জন্য অবরুদ্ধ হইয়াছিল। হরিকিষণের মৃত্যুর পর শিখেরা একমত হইয়া গুরু হরগোবিন্দের পুত্র, মহাতেজস্বী, স্বনামপ্রসিদ্ধ মহাবীর তেগবাহাদুরকে গুরুর পদে প্রতিষ্ঠিত করিলেন। তেগবাহাদুর সম্বন্ধে ইহা বলিলেই যথেষ্ট হইবে যে, এই শিখগুরুর খ্যাতি শিখ পরাক্রমের প্রতিষ্ঠাতা গুরুগোবিন্দ সিংহ ভিন্ন সকলের অপেক্ষাই অধিক। ১৬৭৫ খৃষ্টাব্দে মুসলমানের তীক্ষ্ণ তরবারীতে তেগবাহাদুরের ছিন্ন শির ধূলিলুণ্ঠিত হয়। কিন্তু সেই শোণিতস্রোত বৃথা প্রবাহিত হয় নাই; তাহা শিখ জাতির দুর্দ্দমনীয় প্রতিহিংসা-অনলে আহুতি স্বরূপ হইল। অবশেষে তেগবাহাদুরের উপযুক্ত পুত্র গোবিন্দ সিংহ শিখ জাতির হৃদয়ে যে অভিনব শক্তি সঞ্চারিত করিলেন, তাহা মোগল সাম্রাজ্য বিধ্বস্ত করিয়া ফেলিল।
তেগবাহাদুরের প্রাণদণ্ডের পর গুরু রামরায় আর একবার গুরুপদপ্রাপ্তির চেষ্টা করিয়াছিলেন, ইহা তাঁহার তৃতীয় উদ্যম। ক্রমাগত তিন বার চেষ্টা করিয়া অকৃতকার্য্য হওয়াতে তিনি হতাশ হইয়া পড়িলেন, শিখেরা এবারও পূর্ব্ববারের ন্যায় তাঁহাকে অগ্রাহ্য করিয়া গোবিন্দ সিংহকে গুরুপদে প্রতিষ্ঠিত করিলেন। গোবিন্দ সিংহের ন্যায় কয় জন