বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৩১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
গুরুদ্বার
২৫

লোক এ পর্য্যন্ত ভারতে জন্মগ্রহণ করিয়াছেন? পৌরাণিক ভারতের কথা ছাড়িয়া দেওয়া যাউক, আধুনিক ভারতের চারি জন মহাপুরুষকে স্বদেশহিতৈষী বীরের শ্রেষ্ঠ আসন দেওয়া যাইতে পারে; এই চারি জন—প্রতাপসিংহ, শিবাজী, গুরুগোবিন্দ এবং রণজিৎ সিংহ।

 গোবিন্দ সিংহ শিখ গুরুর পদে অধিষ্ঠিত হইলে রামরায়ের সমস্ত আশা বিদুরিত হইল; তিনি বুঝিলেন, এই নবদীক্ষিত যুদ্ধনিরত জাতির গুরুগিরি করা তাঁহার ন্যায় শান্ত প্রকৃতি উদাসীনের কর্ম্ম নহে। তিনি স্বদেশ হইতে বিদায় গ্রহণ করিলেন, এবং গুরু নানকের নামে ধর্ম্মসম্প্রদায়ের অধিনায়কত্ব করিবার ব্রত গ্রহণ করিলেন। লোকালয়ের বিচিত্র কোলাহলের মধ্যে দীর্ঘকাল বাস করিয়া তিনি বিরক্ত হইয়াছিলেন; তাই নির্জ্জনবাসে জীবনের অবশিষ্ট দিনগুলি শান্তিসুখে অতিবাহিত করিবার অভিপ্রায়ে, দিল্লীশ্বরের নিকট হইতে গাড়োয়াল রাজ্যের রাজার নামে একখানি অনুরোধপত্র লইয়া, ১৬৯৯ খৃষ্টাব্দে সেই পার্ব্বত্য প্রদেশে উপস্থিত হইলেন। গাড়োয়ালরাজ তাঁহাকে সশিষ্যে দেরাদুনে বাস করিবার অনুমতি প্রদান করিলেন। তদনুসারে তিনি প্রথমে টনস্ নদীর তীরে ‘কাণ্ডলী’ নামক একটি নির্জ্জন স্থানে কিছু দিন বাস করেন। এই স্থানে অনেক দিন পর্য্যন্ত একটী কাঁঠাল গাছ ছিল, (এখন আর নাই, অতি অল্প দিন হইল, বিনষ্ট হইয়াছে।) জনরব, তিনি স্বহস্তে এই বৃক্ষ রোপণ করিয়াছিলেন। অধিক দিন এখানে বাস করা তাঁহার অনভি-