বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৩২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৬
প্রবাস-চিত্র

প্রেত হওয়ায়, ‘ধামুওয়ালা’তে তিনি এই বর্ত্তমান মন্দির নির্ম্মাণ করেন; ‘ধামুওয়ালা’ এখন দেরাদুন নগরের মধ্যে পড়িয়াছে।

 এই স্থানে মন্দির স্থাপিত হইলে, নানাদিগ্দেশ হইতে দলে দলে সাধু সন্ন্যাসী আসিয়া তাঁহার শিষ্য হইতে লাগিল। শোকতাপে জর্জ্জরিত, ব্যথিত হৃদয় নরনারীগণ তাঁহার পবিত্র উপদেশে হৃদয় সংযত করিবার জন্য তাঁহার চরণোপান্তে উপনীত হইল, এবং ধীরে ধীরে দেরাদুন সহর সংস্থাপিত হইল। প্রথমে ইহার নাম ছিল ‘গুরুদ্বার’ বা ‘গুরুদেরা,’ ক্রমে ক্রমে ‘গুরু’ লোপ পাইয়া, ইহা ‘দেরা’ নামেই প্রসিদ্ধ হইল, ও ‘দুন’ প্রদেশে অবস্থানের জন্য ‘দেরাদুন’ এই পূর্ণ নাম গ্রহণ করিল। কিন্তু ‘দেরাদুন’ নাম এইরূপে উৎপন্ন হইলেও, ইহার উৎপত্তিসম্বন্ধে একটা পৌরাণিক কিংবদন্তী প্রচলিত আছে। সাধারণ লোকে এই স্থানকে ‘দ্রোণকা ডেরা’ অর্থাৎ কুরুপাণ্ডবের আচার্য্য দ্রোণের ‘দেরা’ বা বাসস্থান বলিয়া নির্দ্দেশ করে; এবং তাহাদের মতে এই জন্যই এ প্রদেশের নাম ‘দুন’ হইয়াছে। এই উভয় মতের মধ্যে কোন্ মতটি যথার্থ, ঠিক বলা কঠিন, তবে যাঁহারা মহাভারতোক্ত ঘটনাকে একটা রূপক জ্ঞান করিয়া কুরুপাণ্ডবের অস্ত্রশিক্ষক সেই বৃদ্ধ গুরুটিকে উড়াইয়া দিতে চাহেন, বলা বাহুল্য, তাঁহাদের নিকট প্রথমোক্ত মতই আদরণীয় ও বিশ্বাসযোগ্য।

 দেরাদূনে প্রতিষ্ঠা লাভ করিবার পর, রামরায় আর কখনও শিখ সম্প্রদায়ের গুরুপদলাভের চেষ্টা করেন নাই।