বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৩৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
গুরুদ্বার
২৭

তাঁহার শিষ্যশ্রেণী ‘উদাসী সাধু’ নামে প্রসিদ্ধ। গুরু নানকের নামে তিনি যে সাধুসম্প্রদায়ের সৃষ্টি করিলেন, পঞ্জাবে তাহাদের সংখ্যা নিতান্ত অল্প নহে, এবং তাহাদের মধ্যে অনেক সম্মানিত লোকও দেখা যায়।

 গাড়োয়ালের রাজা ফতে শা এই মন্দিরের ব্যয়নির্ব্বাহার্থ সেই সময় চারিখানি গ্রাম দান করেন। প্রথমে এই গ্রাম কয়েকগ্গানি হইতে যে আয় হইত, তাহা অধিক ছিল না; কিন্তু এখন তাহার যথেষ্ট আয় হইয়াছে। গুরুদ্বারের মোহন্তই এখন দেরাদুনের মধ্যে সর্ব্বপ্রধান ধনী ও পদস্থ ব্যক্তি। অনেক দিন পূর্ব্বে ইংরাজ গবর্মেণ্ট ইঁহাদিগকে সাতখানি গ্রাম নিষ্কর দান করিয়াছেন। এতদ্ভিন্ন তিহরীর রাজার নিকটও তাঁহারা ছয়খানি গ্রাম লাভ করিয়াছেন।

 অনেক দিন হইল, এই মন্দির নির্ম্মিত হইয়াছে; কিন্তু এখনও তাহার সৌন্দর্য্য অক্ষুণ্ণ রহিয়াছে; এবং তাহার কোনও প্রকার অবস্থান্তর ঘটে নাই। আর যদি কখনও ইহার জীর্ণসংস্কারের প্রয়োজন হয়, তবে পুরুষোত্তমে জগন্নাথ দেবের মন্দিরসংস্কারের জন্য যেরূপ ভিক্ষাপাত্র হস্তে লইতে হইয়াছে, সেরূপ ভিক্ষাবৃত্তির আবশ্যক হইবে না। গুরুদ্বারের অর্থগৌরব এবং সম্পত্তির ইয়ত্তা নাই; তবুও ইহা পরিমিত সংখ্যক শিখ ও উদাসী সন্ন্যাসিগণের পুণ্যতীর্থ মাত্র। আর আমাদের পুরুষোত্তম আট কোটী বঙ্গবাসীর এক মহাতীর্থ; শুধু বঙ্গবাসী কেন, উৎকল, বিহার, উত্তর-পশ্চিম, ভারতের সকল প্রদেশ হইতেই অগণ্য ভক্ত, অসংখ্য পাপী তাপী প্রতি