বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৩৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৮
প্রবাস-চিত্র

বৎসর জনস্রোতের ন্যায়, শত শত ক্রোশ বিস্তৃত দুরতিক্রমণীয় পথ অক্লান্তভাবে অতিক্রম করিয়া, বঙ্গসাগরোপকূলবর্ত্তী এই মহাতীর্থে সমাগত হইয়া, জগন্নাথের প্রসন্নবদন নিরীক্ষণ পূর্ব্বক জীবন পবিত্র করিয়া লয়! বিধাতার বিড়ম্বনা! আজ সভাস্থলে ক্ষীণকণ্ঠে সেই জগন্নাথদেবের প্রাচীন মন্দিরের গৌরবকাহিনী ঘোষণাপূর্ব্বক মন্দির সংস্কারের জন্য অর্থসংগ্রহের চেষ্টা হইতেছে!

 গুরুদ্বারের মন্দিরের সম্মুখেই একটি প্রকাণ্ড পুষ্করিণী বর্ত্তমান। এদেশে পুষ্করিণী খনন করা বিলক্ষণ কষ্টকর ও অর্থসাধ্য ব্যাপার; এই জন্য এখানে প্রায়ই পুষ্করিণী দেখা যায় না। এই পুষ্করিণীর জল অভ্যন্তরস্থ প্রস্রবণ হইতে সমুদ্ভূত নহে, রাজপুর খাল হইতে এই জল আনয়ন করা হয়। এই পুষ্করিণীতে নানাবিধ মৎস্য আছে।

 প্রতি বৎসর ১লা চৈত্র এখানে একটি মেলা হয়, তাহার নাম “ঝাণ্ডার মেলা”। “ঝাণ্ডা” কথাটির অর্থ আগে একটু পরিষ্কার করিয়া বলা আবশ্যক। সন্ন্যাসীদিগের হস্তে একগাছি করিয়া লাঠি থাকে; কোনও স্থানে বাস করিতে হইলে তাহারা প্রথমে সেইখানে লাঠি প্রোথিত করে, এবং তাহার অগ্রভাগে নিশানের মত এক খণ্ড লালকাপড় বাঁধিয়া দেয় তাহার পর সেখানে আসন পাতে। আমাদের দেশেও কোনও কোনও সম্প্রদায়ের ফকিরের মধ্যে এই প্রথা দেখিতে পাওয়া যায়। গুরু রামরায়ও চৈত্র মাসের প্রথম দিনে এখানে আসিয়া অড্ডা করেন ও ঝাণ্ডাস্থাপন করেন। সেই উপলক্ষে এখনও