বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৩৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
গুরুদ্বার
২৯

প্রতি বৎসর মেলা বসিয়া থাকে। এখন পঞ্জাব হইতে দলে দলে শিখেরা আসিয়া এই “ঝাণ্ডার মেলা” দেখিয়া ও গুরু রামরায়ের “ঝাণ্ডা” নামাইয়া উঠাইয়া পুণ্য সঞ্চয় করে। রামরায়ের সেই ‘ঝাণ্ডা’ এখন আর ক্ষুদ্র লাঠি নাই, বৃহৎ জাহাজের মাস্তুলের মত একটি প্রকাশু কাঠখণ্ডে পরিণত হইয়াছে; তাহার সর্ব্বশরীর লাল বস্ত্রখণ্ডে মণ্ডিত, শিরোদেশে সমুজ্জল লোহিত নিশান। পূর্ব্বের ন্যায় এখন আর ইহা মৃত্তিকায় প্রোথিত করিবার সুবিধা নাই; সিংহদ্বারের সম্মুখে পুষ্করিণীতীরে প্রায় ১৫।২০ হস্ত উচ্চ স্থান ইষ্টক ও প্রস্তর দ্বারা বাঁধান হইয়াছে; তাহারই ভিতর সেই প্রকাণ্ডকার ‘ঝাণ্ডা’ দণ্ডায়মান থাকে। প্রতি বৎসর তাহার এক পার্শ্বের ইষ্টকস্তূপ ভাঙ্গিয়া ‘ঝাণ্ডা’ নামান হয়, এবং যদি সেই কাষ্ঠদণ্ডের অবস্থা ভাল থাকে, তবে তাহার গাত্রেই নূতন লাল কাপড় জড়াইয়া নূতন নিশান খাটাইয়া ‘ঝাণ্ডা’ উঠান হয়, নতুবা কাষ্ঠদণ্ড বদলাইয়া দিতে হয়। ঝাণ্ডা তুলিবার সময়ের দৃশ্য অতি চমৎকার; আমাদের দেশে এমন উত্তেজনাপূর্ণ কোনও উৎসবই নাই, এবং অতি অল্পসংখ্যক উৎসব উপলক্ষেই বিদেশ হইতে এত জনসমাগম হইয়া থাকে।

 ১লা চৈত্রের রাত্রি প্রভাত হইতে না হইতে, সহস্র সহস্র নরনারী ঝাণ্ডাতলে সমবেত হইতে আরম্ভ করে; সকলের মুখ প্রফুল্ল, এবং সর্ব্বশরীর অবস্থানুরূপ বেশভূষায় সুসজ্জিত। ক্রমে ঝাণ্ডা তুলিবার সময় হইলে মন্দিরের মহান্ত সেখানে উপস্থিত হন। তাঁহাকে দেখিবামাত্র দর্শকগণ উৎসাহে “জয়