বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৩৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩০
প্রবাস-চিত্র

গুরুজি কি জয়” শব্দে কর্ণ বধির ও আকাশ বিদীর্ণ করিয়া ঝাণ্ডা নামাইয়া ফেলে। তাহার অল্পক্ষণ পরে সেই সমস্ত লোক পুনর্ব্বার সেই ‘ঝাণ্ডা’ পূর্ব্বস্থানে সংস্থাপিত করে; অনন্তর প্রত্যেকে ‘ঝাণ্ডার’ গাত্রে ‘রাখি’ বাঁধিয়া দেয়। গুরুদ্বারের মহান্ত সেদিন অনাহারে, গলে উত্তরীয় বাঁধিয়া, নগ্নপদে, কৃতাঞ্জলিপুটে, ঝাণ্ডার নিকট দাঁড়াইয়া থাকেন। যে মহান্ত মঠপ্রান্তে পদার্পণ করিতেও অপমান বোধ করেন, যাঁহার মস্তকে ছত্রধারণের জন্য এবং পদতলে পাদুকা প্রদানের নিমিত্ত শত শত ব্যক্তি সদা সন্ত্রস্ত অবস্থায় অবস্থান করে, আজ তিনি সর্ব্বাপেক্ষা দীনবেশে, বিনীত ভাবে, গললগ্নীকৃতবাসে ঝাণ্ডার সম্মুখে দাঁড়াইলেন, আজ জনসাধারণের মধ্যে তিনি সাধারণ ব্যক্তির ন্যায় দণ্ডায়মান। দূরে দাঁড়াইয়া আমি এই দৃশ্য দেখিতেছিলাম। আমার মনে হইল, বিধাতার সিংহাসনের সম্মুখেও বুঝি এই নিয়ম; সমদর্শিতাই বুঝি সেখানকার অলঙ্কার, এবং সেই সুখস্বর্গে অহঙ্কার ও অবিনীত ভাব লইয়া মানবের প্রবেশ করিবার অধিকার নাই। সেই দিনের পবিত্র দৃশ্য চিরকাল আমার মনে থাকিবে।

 এক বৎসর এমন হইয়াছিল যে, ‘ঝাণ্ডা’ আর কিছুতেই তুলিতে পারা যায় না; যাহারা ইহা তুলিবার জন্য প্রাণপণে টানাটানি করিতেছিল, তাহারা আমাদের মত দুর্ব্বল মহে, এক একটা অসুরের মত বলবান; সহস্র সহস্র লোক প্রাণ পণে চেষ্টা করিয়াও যখন ‘ঝাণ্ডা’ উঠাইতে পারিল না, তখন সেই উৎসবক্ষেত্রে সমাগত ভক্ত নরনারীর মধ্য হইতে একটা