বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৩৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
গুরুদ্বার
৩১

ঘোর ক্রন্দনের রোল উত্থিত হইল; এবং এক অদৃষ্টপূর্ব্ব অমঙ্গলের আশঙ্কায় সকলেই ভীত ও অবসন্ন হইয়া পড়িল। স্বয়ং মহান্তজী (বয়স ৩০।৩৫ বৎসর) আকুল হইয়া ক্রন্দন করিতে লাগিলেন। তাঁহার চক্ষে অশ্রু দেখিয়া সকলে আরও অধিক ভীত হইয়া পড়িল; হাহাকারধ্বনিতে আকাশ বিদীর্ণ হইতে লাগিল; সকলের মুখেই বিষাদকালিমা পরিব্যাপ্ত। এক ঘণ্টা পূর্ব্বে যে উৎসবক্ষেত্র আনন্দ ও উৎসাহে পরিপূর্ণ ছিল, দেখিতে দেখিতে তাহা যেন তরঙ্গায়িত শোকসাগর বলিয়া প্রতীয়মান হইতে লাগিল। সকলেই সকলেই দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া বলিতে লাগিল, “হো গুরুজী, হো গুরুজী!” অর্ণবযান সমুদ্রমধ্যে বিপথগামী হইলে, বা ঝঞ্ঝাবাতে জলমগ্ন হইবার উপক্রম ঘটিলে, যেমন বিপন্ন আরোহিগণ আকুলভাবে পোতচালকের মুখে একটি আশ্বাসবাণী শুনিবার জন্য অস্থির হইয়া উঠে, এবং বিপদ হইতে পরিত্রাণলাভের জন্য তাঁহার মিনতি করে, এই সমাগত দর্শক ও ভক্তগণের অবস্থাও সেইরূপ। কিন্তু কে তাহাদিগকে আশ্বাসবাণী দিবে? মহান্ত নিজে মুহ্যমান।

 যাহা হউক, চেষ্টার ত্রুটি হইল না; ক্রমে বেলা তিনটা বাজিয়া গেল; কিন্তু এতগুলি লোক চেষ্টা করিয়াও কিছুতেই ‘ঝাণ্ডা’ উঠাইতে পারিল না। প্রকাও প্রকাণ্ড অতি শক্ত স্থূল কাছি ধরিয়া উন্মত্ত ভক্তগণ টানাটানি করে, আর সেগুলি জীর্ণসূত্রের মত ছিঁড়িয়া যায়। আর উপায় নাই; সকলের বিশ্বাস হইল, গুরুজীর অকৃপা হইয়াছে; নতুবা ‘ঝাণ্ডা’ এমন