বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৩৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
গুরুদ্বার
৩৩

‘ঝাণ্ডা’ মেলার ১৫ দিন পূর্ব্ব হইতে অহোরাত্র মন্দির প্রাঙ্গণে গান হয়; দলে দলে গায়কেরা চারি দিকে গান করিতেছে, দিবারাত্রির মধ্যে বিরাম নাই, বিশ্রাম নাই, এক দল যাইতেছে, এক দল আসিতেছে; লোকে লোকারণ্য। মন্দিরের মধ্যে কেহ জুতা পায়ে দিয়া যাইতে পায় না, বাহিরে জুতা খুলিয়া রাখিয়া ভিতরে প্রবেশ করিতে হয়; আমাদের দেশের ন্যায় জুতা চুরী যাইবার কোনও আশঙ্কা নাই।

 গুরুদ্বার এবং ঝাণ্ডার কথা কিছু কিছু বলা হইল। গুরু রামরায়ের মৃত্যু সম্বন্ধে দুই একটি কথা বলিয়া আমরা এই প্রবন্ধের উপসংহার করিব। এরূপ প্রবাদ আছে যে, রামরায় মধ্যে মধ্যে একটি ঘরে প্রবেশ করিয়া দুই তিন দিন ধরিয়া তাহার অভ্যন্তরেই বাস করিতেন; ভিতর হইতে অর্গল বদ্ধ করিয়া দিতেন, সুতরাং অন্য কেহই সে ঘরে যাইতে পারিতেন না। শুনিতে পাওয়া যায়, এই সময় তিনি যোগবলে নানাস্থানে ভ্রমণ করিতেন। একবার তিনি তাঁহার চারি স্ত্রীকে বলিলেন যে, তিনি সপ্তাহকাল গৃহমধ্যে থাকিবেন, এই সময়ের মধ্যে যেন কেহ তাঁহাকে না ডাকে। প্রথম চারি দিন এক ভাবেই অতিবাহিত হইল। কিন্তু গৃহমধ্যে কোনও সাড়া-শব্দ পাওয়া যায় না দেখিয়া, তাঁহার স্ত্রীগণ অত্যন্ত ভীত ও চিন্তিত হইলেন; পঞ্চম দিনে তাঁহার পতিপ্রাণা তৃতীয়া স্ত্রী আর থাকিতে পারিলেন না। ঘরের দ্বার ভাঙ্গিয়া ভিতরে প্রবেশ করিয়া দেখিলেন, গুরুজী যোগাসনে বসিয়া আছেন, চক্ষু নিমীলিত, মুখে প্রসন্ন ভাব বিরাজিত,