কিন্তু স্পন্দহীন, দেহে প্রাণ নাই। চারি দিকে হাহাকার রব উঠিল; সকলেই বুঝিল, দেহে প্রাণ আর ফিরিয়া আসিবে না; তাঁহার ইহজীবনের কার্য শেষ হইয়াছে।
রামরায় যে আসনে বসিয়া যোগমগ্ন অবস্থায় দেহ ত্যাগ করেন, সেই আসন এই মন্দিরমধ্যে সযত্নে রক্ষিত হইয়াছে। গুরুজীর মৃত্যুর পর তাঁহার প্রধানা পত্নী মতো পঞ্জাব কুঙার সমস্ত বিষয় পর্য্যবেক্ষণের ভার গ্রহণ করেন; অবশেষে গুরুজীর শিষ্যশ্রেণীর মধ্যে সর্ব্বপ্রধান হরপ্রসাদ, মহান্ত পদ লাভ করেন। এই সময় হইতে নিয়ম হয় যে, মহান্তের মৃত্যু হইলে তাঁহার সর্ব্বপ্রধান শিষ্য মহান্ত হইবেন। বর্ত্তমান মহান্তের নাম প্রয়াগদাস; এই যুবক মঠধারী কোনও কোনও মহান্তের ন্যায় দুরাকাঙ্ক্ষ না হইলেও, বিলাসিতাশূন্য নহেন। যে দেবসম্মান ও ঐশ্বর্য্যের মধ্যে ইঁহারা প্রতিপালিত, তাহাতে বিলাসী হওয়া আশ্চর্য্য নহে, বরং বিলাসশূন্য হওয়াই বিচিত্র। যাঁহারা সর্ব্বপ্রথমে মঠ সংস্থাপিত করেন, তাঁহারা প্রায়ই অনাসক্ত যোগী, কিন্তু পরবর্ত্তী মহান্তেরা সেই সকল মহৎপ্রকৃতি গুরুর শিষ্যত্ব স্বীকার করিয়াও, তাঁহাদের অলৌকিক গুণগ্রাম, অবিচল একনিষ্ঠা এবং একান্ত নির্লেপ লাভ করিতে পারেন না। বিবিধ কামনা কঠোরতার আবরণের অভ্যন্তরে সামান্য বহ্নিকণার ন্যায় লুক্কায়িত থাকে; কালক্রমে তাহা প্রজ্জ্বলিত হইয়া দাবানলের সৃষ্টি করে, এবং তাহাতে মঠের পবিত্রতা, গৌরব সমস্ত দগ্ধ হইয়া যায়। গুরুদেবের এই মঠ সম্বন্ধে অবশ্য এতখানি কথা বলা যায়