বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৪৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নালাপানি
৩৭

তাহার উপকার হয়। কিন্তু যে সকল ধনিসন্তান পিতৃপিতামহের উপার্জ্জিত অতুল ঐশ্বর্য্যের অধিকারী হইয়া দিবারাত্রি বিলাসসাগরে ডুবিয়া আছেন, এবং প্রতিদিন চর্ব্ব্য চুষ্য লেহ্য পেয়ের দ্বারা উদর পূর্ণ করিয়া বয়স্যগণে পরিবৃত হইয়া তাহাদের মুখে নিজ কথার পুনরুক্তি শুনিতে শুনিতে তাকিয়ার উপর ভর দিয়া অলস মধ্যাহ্ন অতিবাহিত করেন, এবং দিবাবসানে স্ফীতোদরের সুবিস্তীর্ণ পরিধিতে হস্তার্পণ পূর্ব্বক বলেন, “আজ ক্ষিদেটা বড় মন্দা হে!”— নালাপানির জন্য তাঁহাদের সেই ক্ষুধাহীনতা রোগের মহৌষধ; ভিজিট দিয়া ডাক্তার ডাকিবার প্রয়োজন নাই, এক এক গণ্ডুষ তুলিয়া খাইলেই হইল, উদরাগ্নিতে ঘৃতাহুতির ন্যায় তাহা কার্য্যকর হয়, এবং মূহূর্ত্তের মধ্যে সমস্ত খাদ্য জীর্ণ হইয়া যায়; অম্ল রোগেরও এই জল অব্যর্থ ঔষধ।

 যে স্থান হইতে এই ঝরণা বাহির হইয়াছে, সেই পাহাড়ের নামও নালাপানি, এবং গ্রামের নামও নালাপানি হইরাছে। গ্রাম বলিলে পাহাড়ে গ্রামের যাহা অর্থ, তাহাই বুঝিতে হইবে;—সেই আট দশ বিঘা জমীর উপর দশ পনের ঘর অধিবাসী; সংখ্যা খুব বেশী হইলেও পঁচিশ ঘরের অধিক হইবে না; ইহাদের অধিকাংশই নেপালী গুরখা।

 এই নালাপানিতে দুইখানি দোকান আছে; একখানিতে আটা, ডাইল, লবণ, ঘৃত, লঙ্কা প্রভৃতি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য বিক্রীত হয়, আর একখানিতে সদাশয় ইংরাজ গবর্মেণ্টের সযত্নরক্ষিত, গৌরববাহিনী, বিপুল অর্থ-প্রদায়িনী