সুরা বিক্রীত হয়। পর্ব্বতের মধ্যে ২৫।৩০ ঘর গৃহস্থের জন্য পুণ্যসলিলা নালাপানির পার্শ্বেই, সত্যসত্যই যে স্থান হইতে নালাপানির ঝরণা বাহির হইয়াছে, তাহারই গাত্রে মদ্যালয় সংলগ্ন। যে দিন এই সুন্দর স্থানে, এমন পরিষ্কার, সুস্বাদু, সুপেয় নির্ম্মল জলের উৎস-সন্নিকটে এই মদের দোকান দেখিয়াছিলাম, সেই দিন পানদোষনিবারণের জন্য উৎসর্গীকতজীবন, লোলচর্ম্ম, পক্ককেশ, ঋষিপ্রতিম বৃদ্ধ ইভান্স সাহেবের সৌম্য মূর্ত্তি আমার নয়নসমক্ষে উদিত হইয়াছিল। অনেক দিন পরে তাঁহার জলদগম্ভীর কথাগুলির প্রতিধ্বনি যেন শুনিতে লাগিলাম। বহুদূরবর্ত্তী, হিমাচলক্রোড়স্থিত দেরাদুনের মিশন স্কুলের প্রকাণ্ড হল কম্পিত করিয়া বুদ্ধ পরম-উৎসাহ-পূর্ণ হৃদয়ে যে হৃদয়স্পর্শী কথা কয়টি বলিয়াছিলেন, এতদিন পরে আজও যেন তাহা কর্ণে আসিয়া বাজিতেছে; বৃদ্ধ বলিয়াছিলেন, “দারু মৎ পিয়ো, খোদা গঙ্গাজীমে দারু নেহি ঢাল দিয়া, ইয়ে বহুৎ মিঠা পানি ঢাল দিয়া, গঙ্গাজীকো পানি ছোড়কে কাহে দারু পিতে হো।”—হায়, পরদুঃখকাতর আত্মত্যাগী বৃদ্ধ, তুমি যাহাদের এ কথা বুঝাইতে গিয়াছ, তাহারা মনুষ্যত্ববর্জ্জিত বর্ব্বর, নতুবা তোমার এই মধুর উপদেশ তাহাদের হৃদয়ে স্থান পাইল না কেন? এখনও ত দ্বিগুণ উৎসাহে মদ্য বিক্রীত হইতেছে। মানুষ যখন দিক্বিদিক্জ্ঞানশূন্য হয়, তখন বুঝি দেবতাও তাহাকে রক্ষা করিতে পারেন না। পশুত্বের নিকট দেবশক্তিও ব্যর্থ!
দেরাদূন হইতে এক মাইল উত্তরপূর্ব্বে নালাপানির