বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৪৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নালাপানি
৪১

করিলাম। নালাপানির পথে একটু অগ্রসর হইলেই একটি শুষ্ক নদী পার হইতে হয়;—এই নদীর নাম রিচপানা। এই নদীর ধারে চুণ প্রস্তুতের আড্ডা; এই নদীর মধ্যে এবং আশে পাশে অনেক ‘চুণা পাথর’ পাওয়া যায়; শীতের সময় ব্যবসায়িগণ সেই সকল পাথর কুড়াইয়া একত্র করে, তাহার পর বড় বড় গর্ত্ত কাটিয়া তাহার মধ্যে স্তরে স্তরে কাঠ ও ঐ পাথর সাজাইয়া রাখে, শেষে তাহাতে আগুণ ধরাইয়া দেয়। সমস্ত পুড়িয়া গেলে, গর্ত্ত হইতে সেগুলি তুলিলে দেখা যায়, পাথরগুলি অতি সুন্দর পরিষ্কার চুণে পরিণত হইয়াছে। এই ‘রিচপানা’ নদী পার হইয়া সামান্য দূরেই স্থানীয় শ্মশানক্ষেত্র। শ্মশানভূমির পার্শ্ব দিয়া আমরা চলিতে লাগিলাম। এ ক্ষেত্রে আমি অনেকবার আসিয়াছি; কত দিন সন্ধ্যার সময় ইহার নীরব গম্ভীর ভাব দেখিয়া স্তম্ভিতহৃদয়ে জীবন ও মৃত্যু সম্বন্ধে কত কথা চিন্তা করিয়াছি। দুই একবার আমার আত্মীয় বন্ধুগণের স্নেহ ও প্রীতির অবলম্বন স্ত্রী ও পুত্ত্র কন্যার অন্তিমকার্য্য শেষ করিতে আসিয়া, ইহকাল ও পরকালের এই সংযোগস্থলে দাঁড়াইয়া, শোকসন্তপ্ত মনে অশ্রু মুছিয়াছি। নিকটেই আমার এক জন পরম আত্মীয়ের প্রিয়তমার সমাধিমন্দির, এই ক্ষুদ্র সমাধিপার্শ্বে বসিয়া কত দিন তাঁহার স্বভাবের পবিত্রতা, তাঁহার আশ্চর্য্য সরলতা, এবং রমণীহৃদয়ের মধুরতার কথা চিন্তা করিয়া, তাঁহার অভাবে হৃদয়ে গভীর বেদনা অনুভব করিয়াছি; বহুদূরবর্ত্তী এই বিদেশে, প্রবাসের গভীর অভাবের মধ্যে