কতদিন তাঁহার আদর ও যত্নে মাতার করুণা ও ভগিনীর স্নেহ ফুটিয়া উঠিয়াছিল। আজ তাঁহার ক্ষুদ্র বালকবালিকাগুলি নিরাশ্রয়, তাঁহার হতভাগ্য স্বামীর হৃদয় শোকাকুলিত; এই শোকসন্তপ্ত পরিবারের হৃদয়ভারের কথা ভাবিয়া আমার অসীম দুঃখও ভুলিয়া যাই। যে দিন ‘নালাপানি’ দেখিতে যাই, তাহার পাঁচ সাত দিন পূর্ব্বে আমার এক জন আত্মীয়াকে এই সমাধির নিকটেই দগ্ধ করিয়া গিয়াছি, চিতার অঙ্গার তখন পর্য্যন্ত পড়িয়া আছে দেখিলাম, তাহাতেই তাঁহার ইহজীবনের স্মৃতি বিজড়িত ছিল, সংসারে আর কেহ নাই যে, তাঁহার জন্য এক বিন্দু অশ্রু ত্যাগ করে। একবার চিতার নিকটে নিশঃব্দে দাঁড়াইলাম, পরলোকগত আত্মার জন্য আর একবার, বুঝি এই শেষবার ভগবানের করুণা প্রার্থনা করিলাম। তাহার পর পাহাড়ে উঠিতে লাগিলাম।
এই স্থান হইতেই পাহাড়ে উঠিতে হয়। পাহাড় খুব উচ্চ নহে; অল্প দূর উঠিয়াই সেই মুদিখানা দোকান, আর উদারপ্রকৃতি খৃষ্টান ইংরাজরাজের সমুন্নত মহিমা-ধ্বজা সেই শৌণ্ডিকালয়। সকল জিনিষ ক্রয়বিক্রয়েরই একটি নির্দ্দিষ্ট সময় আছে, কিন্তু “কোম্পানী বাহাদুরের অনুমতিক্রমে খুচরা আফিং গাঁজা মদ প্রভৃতি বিক্রয় করিতেছি” এই সাইনবোর্ড যুক্ত ছোট দোকানে খরিদদারের সময় অসময় নাই। নিতান্ত যখন দেখিবে খরিদদার নাই, তখনও অন্ততঃ দুই চারি জন উমেদার শিক্ষানবিশী করিতেছে। আজ রবিবার অপরাহ্ণ, গুরখা পল্টনের সিপাহীগণ আজ বিশ্রাম পাইয়াছে,