বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৪৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নালাপানি
৪৩

তাই আজ এ দোকান খুব সরগরম দেখা গেল। যখন আমরা সেই দোকানের নিকট উপস্থিত হইলাম, তখন সেখানে খুব হাসি তামাসা চলিতেছিল। বলা বাহুল্য, সুরাদেবীরও উপাসনা চলিতেছিল; পাশেই নালাপানি—আমরা সেই নালাপানির জল অঞ্জলি পুরিয়া পান করিতে লাগিলাম। হতভাগ্যেরা যখন হৃদয়ের শোণিত এবং প্রাণের বিনিময়ে উপার্জ্জিত অর্থে গরল পান করিতেছিল, তখন আমরা ভগবানের করুণাধারা প্রাণ ভরিয়া পান করিতেছিলাম। এমন স্বচ্ছ সুস্বাদু জলধারা—বিধাতার করুণাধারা ভিন্ন তাহাকে আর কিছু বলিয়াই তৃপ্তি হয় না। স্থানের সৌন্দর্য্য, তাহার উপর এমন মধুর গম্ভীর সন্ধ্যাকাল, চতুর্দ্দিকে শ্যামল লতাপল্লব, তাহার মধ্যে এই নির্ঝরিণীর আনন্দোচ্ছাস; সঙ্গী বন্ধুর প্রাণ ভাবে বিভোর হইয়া উঠিল। তিনি আমাকে সেখানে বসিয়াই একটি গান গাহিতে বলিলেন। কি গান গাহিব? এমন স্থানে আসিয়া আর কোন গান কি মনে আসে? প্রাণের আনন্দ ও উচ্ছ্বাস সঙ্গীতে ধ্বনিত লয়। আমাদের হৃদয়ের গভীর আনন্দ ব্যক্ত করিবার উপযোগী সঙ্গীত সহজেই মনে পড়িল। দুই বন্ধুতে সেই নির্ঝরের পাশে দীর্ঘবাহু শালবৃক্ষের মূলদেশে উপবেশন করিয়া মুক্তপ্রাণে গাহিতে লাগিলাম,—

“তাঁহারি আনন্দধারা জগতে যেতেছে বয়ে,
এস সবে নরনারী আপন হৃদয় লয়ে।
সে আনন্দে উপবন, বিকশিত অনুক্ষণ,