বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৫০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৪৪
প্রবাস-চিত্র


সে আনন্দে ধায় নদী আনন্দবারতা কয়ে।
সে পুণ্য নির্ঝরস্রোতে বিশ্ব করিতেছে স্নান,
রাখ সে অমৃতধারা পুরিয়া হৃদয় প্রাণ;
তোমরা এসেছ তীরে, শূন্য কি যাইবে ফিরে,
শেষে কি নয়ননীরে ডুবিবে ভূষিত হ’য়ে।
চিরদিন এ আকাশ নবীন নীলিমাময়,
চিরদিন এ ধরণী যৌবনে ফুটিয়া রয়;
সে আনন্দরসপানে চিরপ্রেম জাগে প্রাণে
দহে না সংসারতাপ সংসার-মাঝারে র’য়ে।”

 গানের শেষে মনে হইল, এই নির্ঝরপার্শ্বে, শৈল-অন্তরালবর্ত্তী এই তরুচ্ছায়ায়, প্রকৃতির এই রমণীয় নিভৃত কুঞ্জে প্রকৃতির কবি পূজনীয় রবীন্দ্রনাথকে বসাইয়া যদি তাঁহার মুখে এই গানটি শুনিতে পাইতাম, তাহা হইলে চতুর্দ্দিকের এই পবিত্র সৌন্দর্য্য আরও সুন্দর বলিয়া বোধ হইত; এই সঙ্গীতশ্রবণে হয় ত তাহার যথার্থ উপভোগ হইত। এবং হৃদয়ের পিপাসাও কথঞ্চিৎ প্রশমিত হইত। চক্ষু দ্বারা সর্ব্বদা সকল সৌন্দর্য্য অনুভব করা যায় না, কিন্তু কর্ণে যদি মধুর ভাষায় সেই সৌন্দর্য্যের মর্ম্ম ধ্বনিত হয়—এবং সঙ্গে সঙ্গে সকল সৌন্দর্য্যের যিনি কারণ, তাঁহার বিকাশ অনুভব করা যায়, তাহা হইলে হৃদয়ের সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা অনেকাংশে পরিতৃপ্ত হয়। যখনই যে সুন্দর স্থানে গিয়াছি, কবিবরের রচিত সেই সকল স্থানের রমণীয় দৃশ্যবৎ সুন্দর গান গাহিতে ইচ্ছা হইয়াছে, কিন্তু এ ভাঙ্গা গলায় শূন্য-হৃদয়ে কি তেমন করিয়া