গাহিতে পারা যায়?—পারি নাই, তাই সেই দূর প্রবাসে, নির্জ্জন অরণ্য, মেঘমণ্ডিত গিরিশৃঙ্গ, উপলসঙ্কুল খরতোয়া পার্ব্বত্য প্রবাহিণী, প্রকৃতির প্রমোদ উদ্যান, সকল সুন্দর স্থানেই কবিবরের অভাব বড় গভীর ভাবে অনুভব করিয়াছি। আমার পরম পূজনীয় পিতৃস্থানীয় আত্মীয় প্রসিদ্ধ গণিতজ্ঞ পণ্ডিত ও জ্যোতিষী শ্রীযুক্ত কালীমোহন ঘোষ মহাশয়ের মুখে শুনিয়াছি যে, দয়ার সাগর বিদ্যাসাগর মহাশয় যখন দেরাদুনে বেড়াইতে আসিয়াছিলেন, তখন এক দিন এই সুরম্য স্থান দেখিয়া তিনি এতই আনন্দিত হইয়াছিলেন যে, বলিয়াছিলেন,—“বড়ই ইচ্ছা করে, আমার যারা আপনার জন আছে সকলকে ডেকে এনে এই সুন্দর ছবিখানি দেখাই—এ স্থানটি অতি সুন্দর, অতি সুন্দর!” দেরাদুনে অবস্থানকালে তিনি অনেক সময়ই বলিতেন, “কে যেন কোনও এক সুন্দর দেশ হ’তে এই রমণীয় সহরটা চুরি ক’রে এনে এই পাহাড়ের মধ্যে লুকাইয়া রেখে গেছে।”
ঝরণা দেখা শেষ হইলে, সন্ন্যাসীর আশ্রম দেখিবার জন্য অত্যন্ত উৎসুক হইলাম। জানিতে পারিলাম, তাহা আরও উপরে। বিলম্ব না করিয়া সেই আঁকাবাঁকা পথ বাহিয়া উপরে উঠিতে লাগিলাম। কিয়ৎক্ষণ পরে সন্ন্যাসীর আশ্রমদ্বারে উপস্থিত হওয়া গেল। আমাদিগকে দেখিবামাত্র সন্ন্যাসী অতি সমাদরে আমাদিগকে তাঁহার আশ্রম প্রাঙ্গণে আহ্বান করিলেন। দেখিলাম, তিনি তিন চারিটি বালককে ব্যাকরণ শিক্ষা দিতেছিলেন। বালক কয়টি শরীর দুলাইয়া তাড়াতাড়ি