বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৫২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৪৬
প্রবাস-চিত্র

ব্যাকরণ আবৃত্তি করিতেছিল। আমাদের দেশে পূজার সময় পুরোহিত ঠাকুরেরা যেমন চণ্ডী পাঠ করে, তাহার এক বর্ণ ও বুঝিবার যো নাই, ইহাদের এ আবৃত্তিও তদ্রূপ। আমরা বাহিরে জুতা রাখিয়া আশ্রমপ্রাঙ্গণে প্রবেশ করিলাম। তিন চারিখানি সুন্দর পরিষ্কার ঘর, উঠানটি ঝক্‌ঝক্ করিতেছে। চারিদিকে অনেকগুলি গাছ; ফলভরে বৃক্ষগুলি অবনত, সতেজ পত্রে স্নিগ্ধতা ক্ষরিত হইতেছে। তপোবনপ্রাঙ্গণে একটি বিল্বতরু; একটি রুদ্রাক্ষের গাছ অতি সযত্নে রক্ষিত হইয়াছে। স্থানটি সন্ন্যাসী ও তাঁহার সঙ্গিগণের যত্নে তপোবনের ন্যায় শোভান্বিত হইয়াছে; তাহার স্নিগ্ধ ভাব দেখিলে হৃদয় জুড়াইয়া যায়। সন্ন্যাসী যে কাঠোর প্রকৃতি দার্শনিক নহেন, সেই শুষ্ক যোগসাধনার মধ্যেও কবিহৃদয় বর্ত্তমান, তাহা তাঁহার স্থাননির্ব্বাচনেই স্পষ্ট বুঝিতে পারিলাম। স্থানটি এমন সুন্দর যে, সেখানে দাঁড়াইলে সমস্ত দেরাদুন সহরটি বেশ পরিস্ফূটরূপে দেখা যায়, ঠিক যেন একখানি চিত্রের ন্যায় সুশোভন ও নয়নরঞ্জন। দিবাবসানে এই তপোবনের উন্মুক্ত প্রান্তে দাঁড়াইয়া একবার দেরাদুনের সৌম্য শান্ত শোভা নিরীক্ষণ করিলাম, আলো ও ছায়ার মধুর মিলনে গিরিউপত্যকা-বিরাজিত, হরিৎপত্রবৃক্ষশ্রেণীপরিশোভিত, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অট্টালিকাপূর্ণ দেরাদুন সহর সমস্ত দিনের পরিশ্রমের পরে যেন বিশ্রাম করিতেছে, এবং সান্ধ্যতপনের লোহিত প্রভা তাহার সর্ব্বাঙ্গে প্রতিফলিত হইতেছে; মধ্যাহ্নের অস্ফুট কলরব যেন ধীরে ধীরে চতুর্দ্দিকে ব্যাপ্ত হইয়া গিয়াছে।