বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৫৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
নালাপানি
৪৭

অনেকক্ষণ ধরিয়া এই শোভা দেখিয়া তপোবনের তরুচ্ছায়ায় প্রত্যাবর্ত্তন করিলাম।

 ধনীর অট্টালিকায় উপস্থিত হইলে তাঁহারা হস্তী অশ্ব গৃহসজ্জা প্রভৃতি দেখাইয়া থাকেন, সঙ্গে সঙ্গে হয় ত তাঁহাদের মনে কিঞ্চিৎ গর্ব্বেরও আবির্ভাব হইয়া থাকে; আমাদের সন্ন্যাসী ঠাকুরের নিকটেও সেই মানব-রীতির ব্যবহারবিষয়ে ব্যতিক্রম লক্ষিত হইল না। তিনি আনন্দপূর্ণহৃদয়ে তাঁহার তপোবনের প্রত্যেক বৃক্ষ আমাদিগকে দেখাইতে লাগিলেন, কোন্ বৃক্ষটি কোন্ বৎসর রোপিত হইয়াছিল, এমন কি, কোন্‌টি কবে ফলবান হইয়াছিল, তাহা পর্য্যন্ত তাঁহার মনে আছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ভগবানের কৃপার কথা বলিতে লাগিলেন, অবশেষে বিগলিতহৃদয়ে বলিলেন, “আরে বাবা! দীনদয়াল কঠিন প্রস্তর্‌সে অমৃতধারা বাহার্ কর দিয়া”—তাঁহার চক্ষুও অশ্রুপূর্ণ হইয়া উঠিল; নিজের হৃদয়ের দিকে চাহিয়া দেখিলাম—তাহা মরুময়, পাষাণের অপেক্ষাও কঠিন! ভগবানের নামে সহজে তাহা গলিতে চাহে না।

 সমস্ত দেখা শেষ হইলে সন্ন্যাসীর সঙ্গে আমরা একটি বাঁধান গাছের তলে আসিয়া বসিলাম। সন্ন্যাসীর কয়েক জন শিষ্যও আসিয়া উপস্থিত হইলেন। আজ পল্টনের ছুটি, কেহ মদের দোকানে বসিয়া সুরাদেবীর সেবা করিতেছে, কেহ বা সপ্তাহান্তে আজ সন্ন্যাসীর কাছে আসিয়া এক সপ্তাহের জন্য প্রাণের ক্ষুধা নিবারণের উপকরণ সংগ্রহ করিতেছে;