পুণ্যকথা শুনিতে শুনিতে এই সকল সিংহবিক্রম উদ্ধত সৈনিকপুরুষের হৃদয়ও মেষের ন্যায় শান্ত ভাব অবলম্বন করে।
সন্ন্যাসী অনেক শাস্ত্র-কথা বলিলেন; হরিশ্চন্দ্রের কথা, জন্মদুঃখিনী পুণ্যবতী জানকীর পবিত্র কাহিনী, নল দময়ন্তীর দুর্দ্দশার বিবরণ প্রভৃতি পৌরাণিক বৃত্তান্তও বিস্তৃত করিতে লাগিলেন। এই সকল কথা বলিতে বলিতে হয় ত তাঁহার মনে হইয়া ছিল যে, আমরা যখন লেখা-পড়া-জানা লোক, তখন আমাদের এ সকল কথা জানাই খুব সম্ভব, তাই গল্পের শেষে আমাদিগের দিকে চাহিয়া হিন্দীতে বলিলেন, “ইহারা অধিক লেখা-পড়া জানে না, ইহাদিগকে এই সকল পুরাণকথা বলিলে ধর্ম্ম ও নীতি সম্বন্ধে ইহাদের অনেক জ্ঞান হয়, ইহারা অনেক দূর হইতে আসিয়াছে, এবং এই সকল কথা শুনিতে ইহাদের আগ্রহ অত্যন্ত অধিক।”—যাহা হউক, এ সকল কথা সমাপ্ত হইলে তিনি আমাদের নিকট দর্শনের নিগূঢ়তত্ত্বের আলোচনা আরম্ভ করিলেন, এবং “মায়াবাদ”, “দ্বৈতাদ্বৈতবাদ”, “অবতারবাদ”, “জন্মান্তবাদ” প্রভৃতি বিষয় বলিতে লাগিলেন। দেখিলাম, লোকটি বেশ তার্কিক; ইঁহার আর একটি বিশেষত্ব দেখিলাম, ইনি শাস্ত্রকে দূরে রাখিয়া তর্ক করেন। আমাদের দেশের পণ্ডিতেরা প্রথমেই শাস্ত্র চাপিয়া ধরেন, এবং তর্কে পরাস্ত হইলে শাস্ত্রের উপর আপনার অপদস্থ পণ্ডিত্যাভিমান স্তূপাকার করিয়া মুক্তকণ্ঠে যে সকল বাপান্ত ও অভিশাপান্ত প্রয়োগ করেন, তাহা শাস্ত্রের উক্তি বলিয়া অতি অল্প লোকেরই ভ্রম হয়।