চেলাদিগের ভণ্ডামী ও অশ্রদ্ধেয় বাক্যকৌশলের পরিচয় পাই। কিছু দিন পূর্ব্বে ‘সাধনায়’ উক্ত পত্রিকার জনৈক প্রবন্ধের লেখক প্রাচীন শূন্যবাদ সম্বন্ধে কথা প্রসঙ্গে লিখিয়াছিলেন, ইংরাজীতে একটি গল্প আছে, কিল্কেনির বিড়ালেরা এমন যুদ্ধ করিত যে, যুদ্ধাবসানে তাহাদের লেজগুলি ভিন্ন আর কিছু অবশিষ্ট থাকিত না। কিন্তু প্রাচীন শূন্যবাদীদিগের তর্কযুদ্ধে লেজ দূরের কথা, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সকলই উড়িয়া যাইত। এ কথা প্রাচীন পণ্ডিতদিগের সম্বন্ধে যতখানি না খাটুক, আধুনিক পণ্ডিতদিগের সম্বন্ধে খাটে বটে! আমার এক জন শ্রদ্ধাভাজন বন্ধু অনেক সময়ই বলিয়া থাকেন, “উদরে কিঞ্চিৎ গব্যরস (অর্থাৎ ইংরাজী বিদ্যা) না পড়িলে স্বাধীন যুক্তির দ্বার মুক্ত হয় না।” আমার বর্ত্তমান সন্ন্যাসী ঠাকুর কিন্তু এক জন honourable exception। যাহা হউক, সন্ন্যাসী মহাশয়ের স্বাধীন মত কিরূপ, তাহা জানিবার অভিপ্রায়ে তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম, দেশ কালপাত্রভেদে আইনের কেমন নজীর গঠিত হয়, সেইরূপ এখন শস্ত্রাদিসম্মত বিধিরও “রদ বদল” করা উচিত কি না? সন্ন্যাসী এই কথা শুনিরা বিশেষ তেজের সহিত বলিয়াছিলেন, “আল্বৎ!” অবশেষে কিঞ্চিৎ চিন্তা করিয়া নেন একটু বিষণ্ণভাবে বলিলেন, “আরে বাবা বহুৎ রং বদল হো গেয়া; আভি হিন্দু লোগোঁনে হরওয়াক্ত শাস্ত্রবিরুদ্ধ কার্য্য সমাজমে চালায় লেতেঁ হি।”—তাঁহার কথার ভাবে এই বুঝিলাম, রদ বদল চাই, তবে
পাতা:প্রবাস-চিত্র - জলধর সেন (১৯০৫).pdf/৫৬
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৫০
প্রবাস-চিত্র