প্রথমে যে দিন হাবড়া ষ্টেশনে গাড়ীতে উঠিলাম,—সে অনেক দিনের কথা, কিন্তু এখনও সে কথা বেশ মনে আছে; দুঃখের দিনের কথা বড় মনে থাকে। সব চেয়ে আমার মনে এই ভাবটি বেশী জাগিতেছিল যে, বাঙ্গালা দেশে আর কখনও ফিরিব না, এবং যাঁহারা আমার আপনার, তাঁহাদের স্নেহপূর্ণ মুখ আর একবার দেখিবার সম্ভাবনাও বিলুপ্ত হইয়াছে। আমার একটি বন্ধু আমাকে বিদায় দিবার জন্য ষ্টেশনে আসিয়াছিলেন। তাঁহার মুখখানি ভার; গাড়ী ছাড়িবার শেষ ঘণ্টা পড়িলে, তিনি গাড়ীর দরজা দিয়া দুই হাত বাড়াইয়া আমার হাত দুখানি চাপিয়া ধরিলেন; তখন অধিক কথা কহিবার অবকাশ ছিল না, এবং কথা কহিয়া মনের কথা দূর করা তখনকার পক্ষে অসম্ভব। গাড়ী ছাড়িয়া দিল; বন্ধুর দিকে শেষবার চাহিলাম, তাঁহার চক্ষু জলে পুরিয়া উঠিয়াছিল, আমার চক্ষুও বোধ করি শুষ্ক ছিল না;—একবার মনে হইল কোন্ অনির্দিষ্ট পথে, কোন্ দূর দেশে শান্তির কুহকে কেন ছুটিয়া চলিয়াছি; আর যাইব না, নামিয়া পড়ি। তখনই মনে হইল— সকলই মায়া, জীবন বিড়ম্বনাময়,—যদি বন্ধন ছিঁড়িয়াছি, তবে, আর কেন?—তখন মনে হইয়াছিল, বন্ধন ছেঁড়া বড়ই সহজ।
অনেক দূরের টিকিট লইয়াছিলাম। গাড়ী ছাড়িয়া দিলে গাড়ীতে বসিয়া আমি সেই সুদূরবর্তী পশ্চিম দেশের পর্ব্বতবেষ্টিত নির্জ্জন গ্রামের চিত্র কল্পনা করিতেছিলাম। নানা দেশের যাত্রীতে গাড়ীখানি পূর্ণ; কিন্তু সেই সমাগত মনুষ্য-