মণ্ডলীর মধ্যে আমি একাকী; আড্ডায় আড্ডায় গাড়ী থামে, লোক উঠে এবং নামে; কিন্তু কেহই আমাকে জিজ্ঞাসা করে না,—“বাপু, তুমি কোথায় যাইবে?” আমারও কাহাকেও কোনও কথা জিজ্ঞাসা করিবার ছিল না। শুধু চিন্তা ভাল লাগে না; এক এক বার একটু আলাপ করিতে ইচ্ছা হইতেছিল, কিন্তু সেই জনকোলাহলের মধ্যে একখানিও পরিচিত মুখ দেখিতে পাইলাম না। অপরিচিত লোকের সঙ্গে আলাপ করিবার উৎসাহও ছিল না।
এই সময় কর্ড লাইনে মধুপুরের কাছে একটা পুল ভাঙ্গিয়া পথ খারাপ হইয়াছিল, ডাকগাড়ী ছাড়া অন্য কোনও গাড়ী সে পথে চলিত না। ডাকগাড়ী ভগ্ন সেতুর এ পারে আসিয়া থামিত; ডাক পার হইলে আবার অপর পার হইতে দ্বিতীয় গাড়ী ছাড়া হইত। আমি মিক্সড্ ট্রেণের আরোহী, আমাদের গাড়ী কানুজংশন হইতে দক্ষিণ পথ অবলম্বন করিল। বামে বা দক্ষিণে কোন দিকেই আমার কিছু আপত্তি ছিল না, এবং এক দিনের স্থানে দুই চারি দিন লাগিলেও আমি নিশ্চিন্ত; কোনও রকমে দিনপাত করা ছাড়া তখন আমার জীবনের অন্য উদ্দেশ্য ছিল না।
গাড়ী যতই অগ্রসর হইতে লাগিল, লোকজনের ভিড় ততই বাড়িয়া উঠিল। সঙ্গে সঙ্গে কথা, গল্প, হাস্য পরিহাস গণ্ডগোল—সে সকলের আর ইয়ত্তা রহিল না। একজন তাঁহার ভ্রাতার সঙ্গে পৃথক হওয়ার গল্প বলিতেছিলেন; শুনিলাম, তাঁহার সহোদর কিঞ্চিৎ অতিরিক্ত পরিমাণে স্ত্রৈণ,