পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আজ রবিবার, কলেজ নাই। সত্ৰীও গহে নাই—ভবানীপুরে, তাহার পিত্রালয়ে। নিম্নতলে নিজন বৈঠকখানায় বসিয়া ব্ৰজমাধববাব অপর চিন্তাসাগরে নিমগন। “খন ? না, সন্ন্যাস অবলম্বন ? কি করি ? এ অবস্থায় কি করা উচিত ? কি করা কত্তব্য ?” এটা তিনি স্থির করিয়াছেন, ঝোঁকের মাথায় কিছু করিয়া বাসবেন না—যাহা করিতে হয়, বেশ ধীরভাবে, ঠান্ডা মাথায়, ভাবিয়া চিন্তিয়া—তার পর। সহসা ব্রজমাধববাব ডাকিলেন, “ঝি।” ঝি কলতলায় বাসন মাজতেছিল; উত্তর দিল, “কেন বাবা ?” “একবার এদিকে এস ত।”—বলিয়া ব্ৰজবাব এক টুকরা কাগজে কি লিখিতে লাগিলেন । ঝি বাসনমাজ ফেলিয়া রাখিয়া, তাড়াতাড়ি হাত ধইয়া বস্ত্রাঞ্চলে হাত মছিতে সছিতে বৈঠকখানায় আসিয়া প্রবেশ করিল। ব্রজবাব, তাহার হাতে কাগজখানি দিয়া বলিলেন, “ঐ যে ১৮ নম্বরে উকীল বিপিনবাব থাকেন, তাঁর কাছে চিঠিখানা নিয়ে যাও ত ! একখানা বই দেবেন, নিয়ে এস।” ঝি চিঠি লইয়া প্রস্থান করিল। পাঁচ সাত মিনিট পরেই, চামড়ায় বাবা একখানা মোটা বহি আনিয়া প্রভুর টেবিলের উপর রাখিয়া সবকায্যে চলিয়া গেল। বহিখানি, “ভারতবষীয় দণ্ডবিধি আইন।” ব্ৰজবাব সেখানি খলিয়া, তাহার সদীঘ* সচীপত্র পরীক্ষা করিতে লাগিলেন। পরে, যে পাঠায় নরহত্যা অপরাধের বর্ণনা আছে, সেই পৃষ্ঠা খালিয়া অভিনিবেশ সহকারে পাঠ করিতে লাগিলেন। জটিল বিষয়, অনেকক্ষণ ধরিয়া পাঠ করিলেন। আইনজ্ঞ নহেন, তাঁহার ধারণা ছিল, অসতী স্ত্রীকে হত্যা করলে ফাঁসি হয় না—জেল হয়, বড় জোর দ্বীপান্তর হয়। অনেকক্ষণ পাঠ করিয়া বঝিলেন, তাহা ঠিক নহে। হাতে-নাতে ধরিয়া তদন্ডে খন করিলে ফাঁসি হয় না বটে, অন্যথায় হয়। এলাহাবাদ হাইকোর্টের নজির রহিয়াছে, মোহন নামক এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর চরিত্রে সন্দিহান হইয়া, তাহাকে ধরিবার অভিপ্রায়ে, রাত্রে শয্যায় নিদ্রার ভাণ করিয়া পড়িয়া ছিল। অনেক রাত্রি হইলে, সী ধীরে ধীরে শয্যাত্যাগ করিল, বারের অগল সন্তপণে মোচন করিয়া, ধীরে ধীরে বাহির হইল। মোহনও উঠিল। ঘরে একখানা কুড়াল ছিল, তাহা হাতে লইয়া, একট দরে থাকিয়া, প্রায়ান্ধকার পথে অভিসারিকার অনুসরণ করিল। সত্ৰী, নিভজন রাজপথ বাহিয়া, কিছু দরে গেল। ফকির উদ্দিন নামক একব্যক্তি, এক সৰ্থানে অপেক্ষা করিতেছিল; সন্ত্রীলোকটা সেখানে দাঁড়াইয়া, তার সঙ্গে চপি চপি (ক কথা কহিতে লাগিল। মোহন কিছুক্ষণ অপেক্ষা করিয়া, আত্মসম্ববরণে অক্ষম হইয়া, দই তিন লম্ফে সেখানে উপস্থিত হইয়া, মোসমাতের মস্তকে সজোরে কুঠারাঘাত করিল। সঙ্গে সঙ্গে অভাগিনীর জীবলীলা সাঙ্গ। মোহনের ফাঁসি হইয়াছিল। প্রায় অন্ধ ঘণ্টাকাল আইন পাঠ করিয়া, ব্ৰজবাব একটি দীঘনিঃশ্বাস পরিত্যাগপবেক বহিখানি বন্ধ করলেন। বিকে ডাকাইয়া সেখানি যথাস্থানে ফেরৎ পাঠাইলেন। ৷৷ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ॥ ব্যাপারটা এই। ব্রজমাধবরাবর সত্ৰী উষারাণী, আবাল্য ধনী পিতার গহে প্রতিপালিত হওয়াতে, একট অতিরিক্ত রকম সোঁখীন হইয়া পড়িয়াছিল। বসন-ভূষণ, প্রসাধন দ্রব্য খুব উচ্চমাল্যের না হইলে তার মনেই ধরিত না। তা ছাড়া, সাধারণ হিন্দ কুলবধরে ন্যায় জজ েবড়ী’ হইয়া গাহকোণে আবদ্ধ থাকা, অথবা বহির হইলে দেড়হাত ঘোমটা দিয়া সসঙ্কোচ পদবিক্ষেপ তাহার মোটেই পছন্দ হইত না। থিয়েটার, বায়স্কোপ, এগজিবিশন প্রভৃতি দেখিতে সে বড়ই ভালবাসিত—এবং তাহার ইচ্ছা হইত, বিলাত ফেলুঙ্গুনে সম্প্রক প্রকাশভবে সকল স্থান দিয়া বালে সেও স্বমীঃ সহিত 8-R"