পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০০১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করে আন ত।” গৌরমণি দিদির কোঁটা হইতে দুইটি সত্তিগুলি লইতে লইতে বলিল, “কেন দিদি ? এখন টাকা কি হবে ? : - রতন বলিল, “যাই, সরোজিনীর দেওরকে দিয়ে একটা রেজলী, আরও দই একটা জিনিস-টিনিষ আনাই।” গোঁর জিজ্ঞাসা করিল, “রেজলী কি ?” নয়নমণিও কৌতুহলের সহিত দিদির মখপানে চাহিয়া রহিল। রতন বলিল, “রেজলী জানিসনে ! এই যে কাঁচের কোঁটোতে থাকে, আজকালকার মেয়েরা সাবান-টাবান মেখে, মুখে তাই মাখে—তাকে রেজলী বলে।" একটু ভাবিয়া নয়নমণি বলিল, “রেজলী—না হেজলীন, বল ? সেই শাদা দুধের মত—বেশ মিষ্টি মিষ্টি গন্ধ আছে ? সেই হেজলীনের কথা বলছ বুঝি ?” গৌরমণি হাসিতে লাগিল। বলিল, “হা-হা রেজলী! রেজলী কি ! হেজলীনকে বলে রেজলী ! দিদি যেন ঢঙ—তেলাকুচো রঙ ! হা-হা ?” রতন বলিল, “যা যা—আর ঠাট্টা করতে হবে না। আমি সেকেলে মানুষ অতশত কি জানি ; আমাদের আমলে ও-সব ওঠেওনি, আমরা জানিওনে। আজকালকার ছড়িগুলো মুখে মাখে দেখতে পাই, তাই ভাবলাম যে একটা আনিয়ে নিই। যা-যা নয়ন, টাকা দটো বের করে নিয়ে আয় ।” নয়নমণি উঠিল না, মুখখানি বিষন্ন করিয়া বসিয়া রহিল। রতন রাগিয়া নিজে উঠিয়া টাকা বাহির করিয়া, সরোক্তিনীদের গহাভিমুখে চলিয়া গেল। সেই গলিতে কাছেই তাহারা থাকে। প্রভাতের মেঘ-মেঘ ভাবটা কাটিয়া গিয়া এখন বেশ রৌদ্র উঠিয়াছে। গমোটও কাটিয়া গিয়াছে—জানালা দিয়া ঝরঝর করিয়া শরতের মিষ্ট বাতাস আসিতেছে। গৌরমণি তাহার মাদরেখানি জানালার নিকট সরাইয়া লইয়া শয়ন করিল এবং অবিলবে ঘামাইয়া গেল। নয়নমণি শুইয়া রহিল, কিন্তু তাহার ঘমে আসিল না। সে কেবল আকাশ পাতাল চিন্তা করিতে লাগিল। এত দিনের পর, বাবা বিশবনাথ মা অন্নপর্ণা কি তার পানে মুখ তুলিয়া চাহিলেন ? এতদিন ধরিয়া মনে মনে গোপনে সে যাহা প্রার্থনা করিয়া আসিতেছে, আজ কি তাহা পণ হইবে : কিন্তু—আবার মনে হইল, সত্যই কি তিনি ? যদি তিনি না হন! দিদিরা দুইজনেই বলিতেছেন বটে, কিন্তু বাবা যে বিশ্বাস করিতেছেন না। কিন্তু বাবা ত দেখেন নাই, দিদিরা দেখিয়াছে। আচ্ছা, আসন ত, নয়নও দেখিবে। বিবাহের পর শ্বশরালয়ে গিয়া তিনটি দিন সেখানে থাকিয়া সে পিরালয়ে ফিরিয়া আসে। জামাইষষ্ঠীর সময় আসিয়াও তিনি তিন দিন ছিলেন—আর একবার আসিয়াছিলেন সেই জন্মাটমীর ছটিতে। তিন আর তিনে ছয় আর একে সাত—এই সাত রাত্রি সে স্বামীকে কাছে পাইয়াছিল—কিন্তু লজায় কখনও চোখ তুলিয়া তাঁহার মাখের পানে চাহিতে পারে নাই। তবে দিনের বেলায়, আড়ালে থাকিয়া দই চারিবার তাঁহাকে সে দেখিয়াছে—তাহাতেই স্বামীর মুখখানি তাহার হৃদয়ে অঙ্কিত হইয়া গিয়াছে। সে মুখ কি ভোলা যায়? যথার্থই যদি তিনি হন, তবে "আমি অমক নই আমি সন্ধীরচন্দ্র বস" বললেই কি নয়নমণিকে তিনি ঠকাইতে পারিবেন ? কখনই না। সে, দেখিলেই তাঁহাকে চিনিবে। এখন বাবা বিশ্ববনাথের কৃপায়, সত্যই যদি তিনি হন—তবেই। নাহলে—পোড়া কপাল ত পড়িয়াইছে! আবার নয়নমণির এ কথাও মনে হইল—যদি তিনিই হন, অথচ কোন মতেই সে কথা স্বীকার না করেন, কিংবা আত্মপ্রকাশ করিয়াও, গহী হইতে-নয়নকে গ্রহণ করিতে সম্মত · 입• +