পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০০২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


না হন ? নয়ন ভাবিল, তব ত তাঁহাকে একবার দেখিতে পাইব। এই সহরেই তিনি রহিয়াছেন, তাহাও ত জানিয়া মনকে একটা সিথর করিতে পারিব। বড়দিদি মাঝে মাঝে তাহার খবরটাও ত আনিয়া দিতে পারবেন ! এইরুপ নানা চিন্তায় দই ঘণ্টা অতিবাহিত হইয়া গেল। পাশে পিতার ঘরে ঘড়িতে ঠং ঠং করিয়া তিনটা বাজিল। নয়ন মনে মনে বলিল, “আর দর্ঘণ্টা। পরে আদটে কি আছে কে জানে!” কিয়ৎক্ষণ পরে রতনমণি অঞ্চলে কয়েকটি প্রসাধন সমগ্রী লইয়া প্রবেশ করিল। দেওয়াল আলমারিতে সেগুলি সাজাইয়া রাখিয়া, গৌরমণিকে ডাকিতে লাগিল, “গৌরী, ওলো ওঠ ওঠ । বেলা যে পড়ে এল। নৈনিকে ওঠা, গা মুখ ধুইয়ে ওর চাল-টুল বেধে দেবার জোগাড় দ্যাখ। আমি ততক্ষণ কয়লায় আগণ দিইগে, একট, জলখাবার তৈরি করতে হবে ত ?” গৌরমণি উঠিয়া বসিল। একটি হাই তুলিয়, আঙলে তুড়ি বাজাইয়া জিজ্ঞাসা করিল, “কটা বেজেছে ?” “চারটে বাজে প্রায়। একটু হাত চালিয়ে নে ৷”—বলিয়া রতনমণি চলিয়া গেল। নয়নমণি পশ্চাৎ ফিরিয়া শইয়া ছিল। গৌরমণি তাহাকে নিদ্রিত মনে করিয়া, উঠিয়া পাশে গিয়া বসিল এবং গায়ে হাত দিয়া ডাকিতে লাগিল, “নয়ন-ও নয়ন—ওঠ l". , নয়নমণি ফিরিয়া দিদির পানে চাহিল। গৌর বলিল, “ওঠ । সাবান কোথা আছে , বের করু—চুল, হাতটা মুখটা ধাইয়ে দিই। তার পর চল বাঁধতে হবে—ওঠ।” নয়ন বলিল, “থাক, দিদি, চল বেধে আর কি হবে ?” “বর আসছে যে !”—বলিয়া গৌরমণি আদরে ভগিনীর চিবকে পশ করিল। নয়ন উঠিয়া মুখখানি নীচ করিয়া বলিল, “কার বর তাই বা কে জানে!” গৌরমাণ চটিয়া বলিল, “বাবার সঙ্গে তুইও ঐ সদর ধরলি ? দিদি বলছে সে-ই, , আমি বলছি সে-ই ; যারা দ'জন দেখেছে তারা বলছে সে-ই ; আর তোরা দেখলিনে কিছ না, তোরাই বলবি সে নয় ?” নয়ন একটি দীঘনিশ্বাস ফেলিয়া বলিল, “কি জানি দিদি, তোমরাই জান ভাই ! তোমরা আমার চল বেধে গহনা কাপড় পরিয়ে সাজিয়ে গজিয়ে রাখবে, আর বাবা যদি বলেন সে নয়—তখন ? সে সব গয়না কাপড় খুলে দিতে যে পথ পাবে না ! ছি ছি, কি ঘেন্না ! সে লভজায় পড়ার চেয়ে মরে যাওয়াও ভাল। না না, আমি চলে বাঁধবো না, গয়না কাপড়ও পরবো না—যেমন আছি তেমনই আমায় থাকতে দাও দিদি, তোমার পায়ে পড়ি !" রতনমণি এই সময় কি লইতে ঘরে আসিয়াছিল, শেষ দিককার কথাগুলি শনিয়া সেও . আসিয়া ভগিনীদ্বয়ের নিকট বসিল । নয়নমণির কপালের কাছে দুই চারিগাছি এলোমেলো চলকে ঠিক করিয়া দিয়া বলিল, “অমন অবুঝপনা করে কি, ছি! আমি বলছি সে বিনোদ, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। বাবা এখন যাই বলন, তাকে দেখলেই চিনতে পারবেন। সে জন্যে ত আমি ভয় করছিনে—আমার ভয় কি তা শোন। তার মনে একটা বৈরাগ্য হয়েছিল, তাই না সে ঘর সংসার ছেড়ে পালিয়ে এসেছে । সে কি আমনি এক কথায় আবার সংসার ধমে ফিরে আসতে চাইবে ? আমরা অবশ্যি যতদর সাধ্যি তাকে বোঝাব। কিন্তু আমা- . , দের কথায় তার মন যদি না ফেরে, তখন ত তোমাকেই চেষটা করতে হবে।” - নয়নমণি বলিল, “আমার পোড়াকপাল আর কি ! আমি আবার কি চেটা করবো ? আমি কথাটি কইতে পারবো না—সে আমি কিন্তু বলে রাখছি!” - রতন বলিল, “তেকে কি তার কাছে হাত নেড়ে মুখ নেড়ে উকীলের মত বস্তিমে করতে বলছি ?” - “তবে ?” ԳՖ