পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০০৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“ঘাঁদ দরকারই হয়, সে তখন ষা করতে হবে আমি তোকে বলে দেবো। এখন লক্ষীটি হয়ে, যা বলি তাই শোন। মাথে হাতে সবান দিয়ে চলটল ততক্ষণ বাঁধ –আমি আবার আসছি।”—বলিয়া রতনমণি উঠিয়া গেল। ৷৷ চতুর্থ পরিচ্ছেদ ॥ পাঁচটা বাজিতে তখনও পাঁচ সাত মিনিট বাকীই ছিল, বন্ধ সদর দরজার শিকল কমঝম করিতে লাগিল। সঙ্গে সঙ্গে শোনা গেল, “বাড়ীতে কে আছেন ?” গৌরমণি, বোনের চলবাঁধা ছাড়িয়া পিতার ঘরে ছটিয়া আসিয়াছিল ; সে তাড়াতাড়ি বলিল, “বাবা, বিনোদেরই গলার সবর না ?” বন্ধ বলিলেন, “কি জানি ! ঠিক-বুঝতে পারছি কই ?” দ্বিতীয়বার শব্দ আসিল—“বাড়ীতে কে আছেন ?” রতনও রান্নাঘর হইতে ছটিয়া আসিয়াছিল। সে বলিল, “সাড়া দিন বাবা। নইলে লস তিনটে বার ধৰ্ম্মডাক ডেকে, হয়ত চলেই যাবে।” - গলির উপর ষে জানালা খলিয়ছে, তাহার নিকটেই বন্ধ দাঁড়াইয়া ছিলেন, হাকিলেন —“কাকে চান আপনি ?” উত্তরে কন্ঠস্বর পরীক্ষা করিবার জন্য তিনি কাণ খাড়া করিয়া রহিলেন l নিশন হইতে শব্দ আসিল, “হরিকিঙ্করবাব কি এই বাড়ীতে থাকেন : ' “হ্যাঁ হ্যাঁ—আসছি”—বলিয়া তিনি নীচে নামিবার জন্য বাহির হইলেন। রতন ছটিয়া আসিয়া তাঁহার হাত ধরিয়া বলিল, “বাবা, আপনি থাকুন, আমি গিয়ে দরজা খুলে দিচ্চি। কিন্তু বাবা (রতন হাত দটি যোড় করিল। দোহাই আপনার, সে নিজের পরিচয় যতই অস্বীকার কর্ক, আপনি যেন তার উপর চটে উঠে কিছ তাকে বলবেন না ; আপনি শুধ দেখন, সে যথাৰ্থ বিনোদ কি না। আপনার মন যদি নিঃসন্দেহ হয়, তখন, আর ষা করবার আমরা করবো।”—বলিয়া রতন প্রায় ছটিয়া, সিড়ি নামিয়া গিয়া দরজা খালিয়া দিল। রতনকে দেখিবামাত্র যুবক বলিল, “দেথন, আমি সত্যুরক্ষা করেছি।” রতন বলিল, “এস ভাই এস। তুমি ষে ফাঁকি দিয়ে পালাবে না, সে বিশ্বাস আমার ছিল। চল, উপরে চল।” সদর দরজা বন্ধ করিয়া, আগন্তুককে সঙ্গে লইয়া সিড়ির কাছে আসিয়া রতন হঠাৎ দাঁড়াইল। বলিল, “দেখ ভাই, একটা কথা বলে দিই। তোমার বশরের সংগে দেখা হলেই তাঁকে প্রণামটা কোরো। নইলে তিনি চটে ষান—বড়োমানুষ কিনা " যবেক বলিল, “আমার আবার বশর কে আছে? আমি ত আপনাকে বলেছি আমি יין রর্তন বলিল, “হল ! আবার বলি ধরলে বঝি ? আচ্ছা বশর নাই হলেন, ব্রাহ্মণ ত —প্রাচীন হয়েছেন, পণ্যের শরীর, জপতপ নিয়ে আছেন, তাঁকে ভূমিষ্ঠ হয়ে একটা প্ৰণাম করলে কোনও দোষ আছে কি ?” “না, তা দোষ নেই—প্রণাম করবো এখন। কিন্তু একটা কৰা। অামায় দয়া করে’ একট শীঘ্ৰ ছেড়ে দিতে হবে। আমার অনেক কাষ আছে।”—বলিয়া রতনের পশ্চাৎ পশ্চাৎ যবেক সিড়ি উঠতে লাগিল। বন্ধ হরিকিঙ্কর শয়নকক্ষের দ্বারদেশে হকা হাতে করিয়া দাঁড়াইয়া, সিড়ির দিকে একুদন্টে চাহিয়া ছিলেন। আগন্তুক তাঁহার চক্ষগোচর হইবামা তিনি বরাদার বহির হইয়া দাঁড়াইলেন। যবেক আসিয়া ভূমিষ্ঠ হইয়া তাঁহাকে প্রণাম করিল। “এস বাবা—চিরজীবী হও”—বলিয়া বন্ধ আশীব্বাচন উচ্চারণ করলেনঃ শয়মকক্ষে জানালার কাছে মাদর বিছান ছিল। বদ্ধ, আগন্তুককে লইয়া গিয়া সেখানে ৰঙ্গাইলেন। বলিলেন, “তোমার শরীর ভাল আছে ত ?” ষত্ৰুঞ্জ তাঁহার মুখের দিকে না মুঙ্গেয় উত্তর করিল, “আঙ্গেইীি।” “কাশীতে কতদিন আসা হয়েছে ?” १९ -