পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“কি কি” বলিয়া রতন সেইদিকে ছটিল। বন্ধও উঠিয়া ধীরে ধীরে রান্নাঘরে গিয়া দেখিলেন, নয়নমণি ঘরের মেঝের উপর মচ্ছিত হইয়া পড়িয়াছে। রতন বলিল, “বাবা, রাগের মাথায়, জামাইকেও তাড়ালে, মেয়েটারও প্রাণবধ করলে ?” —বলিয়া তাড়াতাড়ি সেইখানে সে বসিয়া পড়িয়া, নয়নমণির মাথা কোলে তুলিয়া লইল । গৌরমণি জল আনিয়া মচ্ছিতার মুখে চোখে ঝাপটা দিতে লাগিল। বদ্ধ হতাশ ভাবে সেখানে বসিয়া, মুখে শুধু হায় হায় করিতে লাগিলেন। প্রায় পনেরো মিনিট শাশ্রযোর পর নয়নমণির মচ্ছে ভাগিল। রতনমণি ও গৌরমণি সারাদিন পিতাকে অনেক বুঝাইল । তাহারা বলিল, “সে যখন বললে যে আপনার যদি বিশ্বাস না হয়, তাহলে আমায় পরীক্ষা করন, দেখন আমি সত্যি আপনার জামাই কি না, তখন তাকে গালমন্দ দিয়ে তাড়ানো ঠিক হয়নি। আপনি বলছেন যে সে টাকার লোভে, এই একমাস দেশে গিয়ে সমস্ত খবর সন্ধান জেনে তৈরি হয়ে এসেছে। বেশ ত, এমন ঢের কথা তাকে জিজ্ঞাসা করতে পারা যেত, যা আসল বিনোদ ছাড়া আর কেউ জানে না। অন্য কথায় কাজ কি, নয়নের সঙ্গেই সাত রাত্তির সে একত্র ছিল ত ? নয়নই তাকে এমন কথা জিজ্ঞাসা করতে পারত, যার উত্তর আসল বিনোদ ছাড়া কেউ বলতে পারে না।” অবশেষে বন্ধ সম্মত হইলেন। বলিলেন, আচ্ছা বেশ, তাহাকে আবার ডাকিয়া আনা হউক, রীতিমত পরীক্ষাতে যদি মনের সন্দেহ দরে হয়, তবে তাহাকে জামাই বলিয়া গ্রহণ করা যাইতে পারে। এই কথা শুনিয়া, বিকালে ৪টার সময় মহোল্লাসে রতনমণি বিশবনাথ সেবাশ্রমে গিয়া সন্ধান লইয়া জানিল, তথায় সে যবেক সকলের নিকট বিনোদ চট্টোপাধ্যায় নামেই পরিচিত ছিল, আদ্য বেলা দইটার সময় জিনিষপত্র লইয়া, গাড়ী ডাকিয়া সে স্টেশনে চলিয়া গিয়াছে, কোথায় যাইবে কাহাকেও বলিয়া যায় নাই। ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ কন্যার মখে এই সকল সংবাদ শনিয়া, বন্ধ শিরে করাঘাত করিয়া বলিলেন, “হায় হায়! রাগের বশে এ কি কাজ করে বসলাম !” অনুশোচনায় তিনি অস্থির হইয়া । উঠিলেন। রতনমণি তাঁহাকে বঝাইতে লাগিল, “আপনি আর কি করবেন বা ? যার অষ্টে যা আছে তাই ত হবে; সে ত কেউ রদ করতে পারবে না-ব্রহ্মা বিষ্ণ, মহেশবর এলেও না।” একদিন কাটিল, দইদিন কাটিল। এ দুইদিন নিয়মিত সময়ে হাঁরকিঙ্কর আহারে বসিয়াছেন বটে, কিন্তু খাদ্যদ্রব্য অধিকাংশই অভূক্ত পড়িয়া থাকিয়াছে। রাত্রে নিদ্রা হয় না, উঠিয়া বিছানায় বসিয়া থাকেন, আর হায় হায় করেন। তৃতীয় দিনে, বিশবনাথ সেবাশ্রমে গিয়া তথাকার লোকদিগকে জিজ্ঞাসা করিলেন, বিনোদের কোনও সংবাদ তাহারা পাইয়াছে কি না। তাহারা বলিল, কোনও সংবাদই তাহারা পায় নাই। নয়নমণির বিশীর্ণ পাণ্ডর দেহখানি ও মলান মুখচ্ছবি দেখিয়া তাঁহার বকের ভিতরটা হাহাকার করিতে থাকে। চতুৰ্থ, দিনে তিনি রতন ও গৌরমণিকে ডাকিয়া বললেন, “আমার বোধ হয়, মনের খেদে কাশী ছেড়ে আর কোনও তাঁথস্থানে গিয়ে সে আশ্রয় নিয়েছে। এখানকার বাড়ী বন্ধ করে, চল আমরা তাঁথে তীথে ঘুরে বেড়াই—যদি কোথাও আবার তার দেখা পাই ।” দই তিনদিন ধরিয়া পিতা ও কন্যান্বয়ের মধ্যে এই বিষয়ে বাদানুবাদ চলিল। রতন বলে, “আপনার এই দবল শরীরে, এ অবস্থায় দেশে দেশে ঘরে বেড়ান কি আপনার শরীরে সইবে ? বিদেশ বিভু ইয়ে যদি কোনও অসুখ বিসখ হয়ে পড়ে, তা হলে আমরা মেয়েমানুষ, আপনাকে নিয়ে অতন্তরে পড়ে যাব যে ! সে কাশী ছেড়ে গিয়েছে, আবার হয়ত ফিরে আসবে। মাঝে মাঝে সেবাশ্রমে গিয়ে খবর নিলেই হবে—দিনকতক দেখাই - RS - -