পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০১১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যাক না ।” এইরুপে একমাস কাটিল। দ্বিতীয় মাসের মাঝামাঝি একদিন বন্ধ পাজা আহিক সারিয়া, দুগ্ধপান করিয়া নয়নমণিকে বলিলেন, “আমি একবার অগস্ত্যকুণ্ডে ষাচ্চি, ঘণ্টাখানেক পরে ফিরবো।” দাই নিনে বসিয়া বাসন মাজিতেছিল, বন্ধ তাহাকে বলিয়া গেলেন, “আমি বেরুচ্ছি, ছোটদিদিমণি একলা রইল, বড়দিদি মেঝদিদি ফিরে না আসা পৰ্য্যন্ত তুই বাড়ীতে থাকিস, কোথাও যেন যাসনি।”—বলিয়া তিনি বহির হইয়া গেলেন। নয়নমণি রান্নাঘর বন্ধ করিয়া, পিতার ঘরে আসিয়া তাঁহার মহাভারতখানি লইয়া, মেঝের উপর বসিয়া পড়িতে আরম্ভ করিল। কিয়ংক্ষণ পর, দাই নিম্ন হইতে আসিয়া বলিল, “ছোটদিদিমণি, ডাকওয়ালা এই রেজেন্টারী চিঠি নিয়ে এসেছে; রসিদ লিখে দ{ও ।” নয়ন চিঠিখন হাতে করিয়া দেখিল, তাহার নামেরই চিঠি। উপরে বাংগালায় পষ্ট লেখা রহিয়াছে শ্রীমতী নয়নমণি দেবী। তাহার পর, নীচে ইংরাজিতে কি সব আছে তাহা নয়ন পড়িতে পারল না। - এ চিঠি কে লিখিল ? নয়নকে কেহ ত কোনও দিন চিঠি লেখে না! যাহা হউক, কপিত হতে রসিদে সহি করিয়া চিঠিখানি খুলিয়া দেখিল, একখানি দশ টাকার নোট তাহার মধ্যে রহিয়াছে। তখন চিঠিখানি সে পড়িতে লাগিল— শ্রীশ্রীবিশবনাথ শরণং আমিনাবাদ, লক্ষেী ২২শে অগ্রহায়ণ নয়নমণি, তুমি আমার এ পত্র পাইয়া বোধ হয় আশ্চৰ্য হইবে, কারণ বিবাহের পর পাঁচ বৎসর মধ্যে কখনও তোমাকে আমি কোনও পত্র লিখি নাই, এই প্রথম। যেদিন প্রথম রাস্তায় তোমার দিদিদের সহিত দেখা হয়, সেদিন বিকালে তোমাদের বাড়ী যাইবাব আমার ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু যাইতে বাধ্য হইয়াছিলাম, কারণ সত্যবদ্ধ হইয়াছিলাম এবং দ্বিতীয়তঃ, আমি না যাইলে বড়দিদি সেবাশ্রমে গিয়া উপস্থিত হইবেন বলিয়া শাসাইয়া রাখিয়াছিলেন, সেবাশ্রমে সকলেই আমার প্রকৃত পরিচয় জ্ঞাত ছিল, সতরাং ধরা পড়িতাম। সেদিন বিকালে আমি তোমাদের কাশীর নদীয়া ছত্তরের বাড়ীতে গিয়া, মহাপাষণ্ডের মত তোমাদের সকলের অনুরোধ উপেক্ষা করিয়া, কিছতেই স্বীকার করি নাই যে আমি সেই বিনোদ। তুমি যখন আমার কাছে বসিয়া কাঁদিয়াছিলে, তখন এক একবার আমার ইচ্ছা হইতেছিল যে স্বীকার করি; কিন্তু আমি বাবা বিশ্বনাথের সেবার জন্য নিজ জীবনকে উৎসগা করিয়াছিলাম, গহী হইলে আমার ব্রতভঙ্গ হইবে এই ভাবিয়া তখন অনেক কটে নিজেকে সম্বরণ করিয়া সেখান হইতে চলিয়া আসি। চলিয়া আসিলাম বটে, কিন্তু ষে ব্রতের জন্য তোমাদের সহিত এমন নিষ্ঠর ব্যবহার করিয়া আসিলাম, সে ব্লতে আমি আর মন দিতে পারলাম না। সারাদিন কেবল তোমার সেই অশ্রুপণ চক্ষ দুইটি স্মরণ হয়,—যে কাজে নিজেকে নিয়োগ করিয়াছিলাম, সে কাজে আর মন লাগে না। তোমার সেই মুখখানি, সেই কথাগুলি কেবলই মনে পড়ে —আর বকের মধ্যে কেমন হহেন করিতে থাকে। কাজের মধ্যে ঝাঁপাইয়া পড়িয়া তোমার ভুলিতে চেণ্টা করি, কিন্তু ব্যথা চেষ্টা। কেবলই মনে হয়, দীন দুঃখী ও আত্তের সেবাশাশ্রষার জন্য আমি নিজেকে উৎসগা করিয়াছি বটে, কিন্তু আমি ধৰ্ম্ম সাক্ষী করিয়া যাহাকে চিরজীবন রক্ষা করিবার ভার গ্রহণ করিয়াছিলাম, তাহার উপায় কি করিলাম? নিজ ধৰ্ম্মপকে দিধে অটু আমি এ কি ধম পাল কল্পিত বসছি। e