পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০১২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


একমাস কাল নিজের মনে অনেক বিচার বিবেচনা করিয়া দেখিলাম, আমি যাহা । করিতে প্রবত্ত হইয়াছি তাহা ধৰ্ম্ম নয়, ঘোর অধৰ্ম্ম। তাই সেদিন ৯টার সময়, নিজ প্রকৃত পরিচয় দিয়া, তোমাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করিয়া, আবার গহবাসী হইবার অভিপ্রয়ে তোমাদের বাড়ী গিয়াছিলাম। বাবার সঙ্গে আমি যখন বসিয়া কথা কহিতেছিলাম, তখন রান্নাঘর হইতে তোমার চক্ষ দাইটি একবার মাত্র দেখিতে পাইয়াছিলাম। বাবা আমার সহিত করপে ব্যবহার করিয়াছিলেন তাহা তুমি স্বকণে সমস্তই শনিয়াছ। তাহার পর, মনের ধিক্কারে সেখান হইতে আমি চলিয়া আসি। পথে দিদির সহিত দেখা হয়, তাঁহাদের কাছে ক্ষমা প্রাথনা করিয়া আসিয়াছি। কেবল তোমার কাছে ক্ষমা প্রাথনা করিবার সযোগ আমি পাই নাই—এই পত্রে তাহা করিতেছি। তুমি সেদিন আমায় বলিয়াছিলে, “আমি তোমার দী হই না হই, তুমি আমার স্বামী।” তোমার স্বামীর পাব-আচরণের সমস্ত অপরাধ তুমি ক্ষমা কর, তোমার নিকটে এই আমার প্রাথনা। আমি এখানে বলরামপুর হাসপাতালে ডাক্তারী চাকরি গ্রহণ করিয়াছি। তোমার বাবা আমায় তাড়াইয়া দিলেও, আমি তোমার স্বামীই রহিলাম। যদি কখনও আমার সহিত সাক্ষাৎ করিতে ইচ্ছা কর, আমার কাছে আসিতে চাও, তবে লিখিও, আমি তাহার ব্যবস্থা করিব। আমার প্রথম উপাত্তজন হইতে দশটি টাকা এই পত্রের মধ্যে তোমায় পঠাইয়া দিলাম, তুমি গ্রহণ করিলে সখী হইব এবং আমায় উপাজন সাথক হইবে। কিন্তু কি জানি, বাবা যদি এ টাকা তোমায় লইতে না দেন, তবে বিশ্বনাথ সেবাশ্রমে ইহা পাঠাইয়া দিও। তুমি যে আমায় পত্র লিখিবে, এ আশা করা আমার পক্ষে দরাশা মাত্র। जान्न মাঝে মাঝে তোমায় চিঠি লিখিব। বাবার যদি অমত না হয়, তাহা হইলে দিদিরা যেন দয়া করিয়া মাঝে মাঝে আমায় তোমার সংবাদটা দেন। তাঁহাদিগকে আমার প্রণাম Wo জানাই তোমার হতভাগ্য স্বামী বিনোদ নয়নমণির তখনও পত্র পড়া শেষ হয় নাই, রতনমণি ও গৌরমণি গঙ্গাস্নান করিয়া ফিরিয়া আসিল। নয়ন পত্ৰখানি তাহাদিগকে দেখাইল। গৌরমণি বলিল, “বাবা এলে তাঁকে এ চিঠি দেখিয়ে, কালই আমরা সকলে লক্ষেী যাই চল।” অপেক্ষণ পরে, বদ্ধ হরিকিঙ্কর হাঁপাইতে হাঁপাইতে বাড়ী আসিয়া বলিলেন, “ওরে মঙ্গী, আমার আলমারিটা খোল দেখি চট করে।” “কেন বাবা, কি হয়েছে ?”—বলিয়া রতন চাবি বাহির করিল। বন্ধ অধীর হইয়া বলিলেন, “ওরে খোল খোল—কথা পরে হবে এখন।” রতনমণি অলমারি খলিবামাত্র, বন্ধ তাড়াতাড়ি তাহার একটা পথান হইতে এক বাণ্ডিল পরাতন কাগজ प्रेनिया বাহির করিলেন। তাহার মধ্যে খুজিতে খুজিতে, 'বিনোদের লেখা পাঁচ বৎসরের পরাতন একখানি পত্র পাওয়া গেল। সেই পত্ৰখানি খলিয়া, বন্ধ নিজ পকেট হইতে একখানি তাজা পত্র বাহির করিয়া মিলাইতে লাগিলেন। কন্যাবয়কে বলিলেন, “দেখ দেখি—দেখ দেখি—দই চিঠিই এক হাতের লেখা নয় ?” রতনমণি গৌরমণি নতন পত্রখানি তুলিয়া দেখিল, তাহাও বিনোদ লক্ষে হইতে সেবাশ্রমে লিখিয়াছে, বেতন পাইয়া আশ্রমের সাহায্যকল্পে পত্রমধ্যে দশটি টাকা পঠাইয়া দিয়াছে। বন্ধ বলিলেন, “আজ ওদের ওখানে খোঁজ নিতে গিয়ে শুনলাম, একট আগেই তারা এই চিঠি পেয়েছে। চিঠি দেখেই মনে হল, আমায় কাছেও তার দই একখানি চিঠি ত সুকু ৷ র লেখা মিলিয়ে দেখি না! তাই চিঠিখানি তাদের কাছে চেয়ে নিয়ে, WB- br)