পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বলাইতে লাগিল, এইরূপ ঘণ্টাখানেক শুশ্ৰষার পর তিনি কতকটা চাঙ্গা হইয়া উঠিলেন। কয়েকদিন পরে পনরায় কাছারি গিয়া পুলিশ গেজেটের ফাইল, কলিকাতা গেজেটের ফাইল, অনুসন্ধান করলেন, কিন্তু কোনও সন্ধান মিলিল না। টাকা হারানোর কোনরাপ বিজ্ঞাপন কেহ দেয় নাই। মাসখানেক পরে হেমন্ত কলিকাতা চলিয়া গেলেন। ব্যাকে ব্যাঙ্কে ঘুরিলেন, কারেন্সি আপিস, রয়াল এক্সচেঞ্জের নোটিশ বোর্ডগলি খুজিলেন, কিন্তু কোথাও কোনরপে সত্ৰ পাইলেন না। অবশেষে নিজের কটাঙ্গিজাত অথ ব্যয় করিয়া একখানি প্রধান ইংরাজি সংবাদপত্রে এই মৰ্ম্মেম বিজ্ঞাপন দিলেন—“রেলগাড়ীতে ভ্রমণ কালে আমি একটি পলিন্দা কুড়াইয়া পাইয়াছি। হারাইবার তারিখ, স্থান, পলিন্দায় কি ছিল ইত্যাদি বিষয় বর্ণনা সহ আবেদন করন "–ইত্যাদি। উপযর্ন্যপাঁর ছয়দিন ধরিয়া এই বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হইল, কিন্তু একখানি পত্রও হেমন্তের নিকট আসিল না। তখন তিনি এ বিষয়ে একান্ত হতাশ হইয়া একদিন তাঁহার জননীর নিকট আদ্যোপাত সমস্ত কথা জানাইয়া, টাকাটা এখন কি করা উচিত সে বিষয়ে তাঁহার পরামশ জিজ্ঞাসা করিলেন। মা সমস্ত শনিয়া অনেকক্ষণ সন্তব্ধ হইয়া বসিয়া রহিলেন। অবশেষে বলিলেন, - “অতগুলি টাকার লোভ, তুমি যে বাবা সংবরণ করতে পেরেছ, তাতে আমি বড় সখী হয়েছি। ব্রাহ্মণের ছেলের উপযুক্ত কাজই তুমি করেছ। এত করেও যখন টাকার মালিকের সন্ধান তুমি পেলে না, তখন একটা কাজ কর। টাকাগুলি কলকাতায় কোনও ভাল ব্যাকে গচ্ছিত রেখে এস। ব্যাঙ্ক থেকে ঐ টাকার সদে যা পাওয়া যাবে, তা তুমি স্বচ্ছন্দে নিজে ভোগ করতে পার, তাতে কোনও দোষ নেই, আমি তোমায় অনুমতি দিচ্চি। যদি ভবিষ্যতে কোনও দিন টাকার যথার্থ মালিক এসে উপস্থিত হয়, ঐ সমস্ত টাকাটা তাকে ফিরিয়ে দিও।” গিয়া বেঙ্গল ব্যাঙ্কে টাকাটা গচ্ছিত রাখিয়া আসিলেন। ছয় মাস অন্তর ২৫০০ টাকা সদ আসিতে লাগিল। সেই টাকায় এবং নিজের উপাত্তজনে হেমন্ত স্বচ্ছন্দে সংসার যাত্রা নিববাহ করিতে লাগিলেন। বৎসরের পর বৎসর কাটিতে লাগিল; ক্ৰমে ওকালতীতে হেমন্তের পশার জমিয়া গেল; আরও কয়েকটি নাতি নাতিনীর মুখ দেখিয়া তাঁহার জননী সবগারোহণ করিলেন; বড় মেয়েগুলির বিবাহ হইল; বড় ছেলেরা পাশ করিয়া কলেজে প্রবেশ করিল; হেমন্তের দেহখানি পথল হইল, মস্তকের অগ্রভাগে টাক পড়িল; পৈতৃক বাড়ীখানি ভাগিয়া তিনি নতন ইমারত প্রস্তুত করলেন। এইরূপে সদীর্ঘ ২৫ বৎসর কুটিয় গেল, কিন্তু ব্যাঙ্কে জমা সেই লক্ষ টাকার দাবীদার কেহ উপস্থিত হইল না; কিংবা তাহাকে আবিকার করিবার কোন সত্ৰও হেমন্ত পাইলেন না। তৃতীয় পরিচ্ছেদ আজ রবিবার। বেলা ৭টার সময়, অতঃপরে বসিয়া হেমন্তবাব চা-পান করিতেছিলেন, ভূত্য অসিয়া সংবাদ দিল, আপিসঘরে একটি বাব দেখা করিবার জন্য অনেকক্ষণ বসিয়া আছেন। হেমন্ত জিজ্ঞাসা করলেন, “মক্কেল ?” ভূত্য বলিল, “বগলে ত ੋপত্র কিছ দেখলাম না।”—“আচ্ছা, বসতে বল"—বলিয়া হেমন্তবাব চা-পানে রত l চা-পানান্তে কিয়ৎকাল তামাকু সেবন করিয়া হেলিতে দলিতে মন্থরপদে তিনি আপিসঘরে আসিয়া প্রবেশ করিলেন। “ಸ್ಟ್ಗಳ ಚೆಣ್ ಗೆ ಗೆಳತಿ*