পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


iচাখ দিয়া যেন আগন ছটিতে লাগিল। উষা নামিয়া, স্বামীকে দেখিবামাত্র তাঁহার পানে চাহিয়া বেশ সপ্রতিভ ভাবেই কহিল, এই যে, ভালই হল; তোমার সঙ্গে আলাপ করবার জনো মিস্টার লাহিড়ী বড়ই ব্যস্ত হয়েছিলেন। আমি বলেছিলাম, তিনি ত এখন বাড়ী নেই, আপনি অনfদন কোনও সময় বরং আসবেন। ত৷ তুমি এসে পড়েছ ভালই হয়েছে। ইনি আমাদের বেলাদিদির ভাই—মিটার লাহিড়ী। (লাহিড়ী সাহেবের পানে ফিরিয়া) ইনিই আমার স্বামী, প্রেফেসর স্যা l” লাহিড়ী সাহেব তৎক্ষণাৎ ব্ৰজবাবর সঙ্গে করমন্দন করিয়া বলিলেন, “হা-ডু-ড স্যঃ।” —মুখ হইতে ভক করিয়া একটা মদের গন্ধ বাহির হইয়া ব্ৰজমাধববাবর ঘাণেন্দ্রিয়কে নিগৃহীত করিল। মনের বিরক্তি মনে চাপিয়া ব্ৰজবাব বলিলেন, “আসন, মিটার লাহিড়ী, ভিতরে আসন।” লাহিড়ী সাহেব অতি ভদ্র ভাষায় ক্ষমা চাহিয়া, ব্ৰজবাবরে সহিত পুনশ্চ করমদন করিয়া, উষার প্রতি "টুপি উত্তোলন” পবেক, মোটরে উঠিয়া প্রস্থান করিলেন। স্ত্রীসহ ব্ৰজবাব গৃহমধ্যে প্রবেশ করিলেন। উষা বলিল, “হ্যাগা, আজ যে এত শীগগির ফিরলে ?” মনে মনে ব্ৰজবাব বলিলেন, “অসুবিধে হল বঝি ?”—প্রকাশ্যে শীঘ্র ফিরিবার যথার্থ কারণ যা তাই বলিলেন। স্বামীকে অত্যধিক গম্ভীর দেখিয়া উষ্য বলিল, “তোমায় না বলে ওদের সঙ্গে বায়ক্ষেপে গিয়েছিলাম তাই তুমি রাগ করেছ ? তুমি বেরিয়ে যাবার একট পরেই, দুবলাদিদি এসে উপস্থিত। আমিও কিছতেই যাব না, তিনিও কিছুতেই ছাড়বেন না। শেষে আমি বললাম, দেখ, একলা দািকলো মেয়েমানুষ, বিনা অবিভাবকে এ রকম হটর হটর করে, এখানে ওখানে যাওয়া আমাদের উনি পছন্দ করেন না। বেলাদিদি বললেন, এই যদি তোমার আপত্তি হয়, তা হলে কোনও বাধা নেই। আমার মেজদাদা, কদিন হল লাহোর থেকে এসেছেন, তিনি বায়স্কোপের ভেটিবলে আমার অপেক্ষায় থাকবেন, তুমি চল। তাই শনে আমি গেলাম। বায়কোপের পর, বাড়ীতে বেলাদিদিকে নামিয়ে দিয়ে মিস্টার লাহিড়ী আমায় পৌছে দিতে এসেছিলেন!” ব্ৰজবাব গভীরভাবে জিজ্ঞাসা করিলেন, "উনি লাহোরে থাকেন বুঝি ? সপরিবারে ?” “না উiন এখনও অবিবাহিত ।” “কি করেন সেখানে ?” “ব্যারিস্টারি করেন। খুব রোজগার।” “ওঃ”—বলিয়া ব্ৰজবাব মৌনাবলম্বন করিলেন। স্বামীর ভাবভঙ্গি দেখিয়া উষাও একট চটিয়া গেল। এমন কি অপরাধ করিয়াছে সে, যার জন্য এত ? স্বামীর প্রতি অভিমানে দিন দুই উষা ভাল করিয়া কথা কহিল না। কয়েকদিন পরে, একদিন উষা একটা বিবাহের নিমন্ত্রণে যাইবার জন্য সাজগোজ করিতেছিল: ব্ৰজবাবও যাইবেন, তিনিও বসন্ত্র পরিবতন করিতে আসিলেন। উষা একটা সুগন্ধির নতন শিশি খলিয়া, নিজ বসনে ইচ্ছামত মাখিয়া স্বামীর রমালে একটা মাখাইয়া দিয়া বলিল, “কেমন সুগন্ধি বল দেখি ” ব্ৰজবাব প্রাণ লইয়া বলিলেন, “বাঃ—সুন্দর।” পরে শিশিটি হাতে লইয়া দেখিলেন, গন্ধটির নাম নাকিস। বলিলেন, “এটা খুব দামী বোধ হয় ? কত দিয়ে কিনলে ?” উষা একটু ইতস্ততঃ করিয়া বলিল, “বড়গলের দাম বেশী—এগলো ছোট, এগুলোর দাম কম৷” “তব কত ?” సి