পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দিন যত যায়, কোন বিষয়ের প্রমাণ পাওয়া ততই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এক আধ বচ্ছন্ন নয়, পাঁচশ প’চিশ বচ্ছর কেটে গেছে!” “তা ঠিক।”—বলিয়া হেমন্ত গড়গড়ার নল ফেলিয়া চক্ষ মাদ্রিত করিলেন। গহিণী শয্যাপ্রান্তে বসিয়া, তাঁহার পায়ে হাত বলাইয়া দিতে লাগিলেন। প্রায় দশ মিনিট পরে, হেমন্ত মাদ্রিত নয়নে বলিলেন, “আশ্চৰ্য্য ! এক লক্ষ টাকা যার হারিয়ে গেল, পাঁচশ বৎসরকাল সে ট; শব্দটি করলে না –এ রকম আশ্চৰ্য্য ঘটনা আমি ত কখনও শনিওনি।” গহিণী বলিলেন, “ও কি ? তুমি এখনও ঘমোওনি বুঝি? আমি ভেবেছিলাম, ঘামিয়ে পড়েছ।” হেমন্ত উঠিয়া বসিয়া বললেন, “ঘমের পথ কি আর তুমি রেখেছ গিন্নি ?” “কেন, আমি কি করলাম ?” “মাথায় প্রলোভনের আগন জেলে দিয়েছ যে ” జా శాకా , శా శా ఆ ఇ F * আমার দোষ ?” হেমন্ত হাসিয়া বলিলেন, “তোমার দোষ কিছ না। বাইকেলের গলপ শোনান ? সপর্যপী শয়তান ইডেন বাগানে এসে, বহন কন্টে মানব-মাতা ঈভকে নিষিদ্ধ ফলটি খাইয়েছিল। তার পর ঈভ কিন্তু অতি সহজেই, আদমকে সেই ফল খেতে রাজী করেছিলেন। সেই ঈভের বংশেই তোমার জন্ম ত ” - গহিণী বলিলেন, “পোড়া কপাল আর কি! আমি ব্রাহ্মণের মেয়ে, ঈভের বংশে আমার জন্ম হতে যাবে কেন ? তুমি শোও, ঘামোও।” হেমন্ত বললেন, “সে হবে এখন; লোহার সিন্ধকে খুলে ব্যাঙ্কের বইখানা বের করে আন ত ৷” গৃহিণী বই আনিয়া দিলেন। হেমন্তবাব চশমা চোখে দিয়া দেখিলেন, কয়েকদিন হইল, সেই লক্ষ টাকার শেষ ডিপজিটের মেয়াদ উত্তীণ হইয়াছে; পুনরায় ডিপজিটের পর লেখা হয় নাই—অর্থাৎ টাকাটা যেদিন খসী তুলিয়া লওয়া যার। ব্যাঙ্কের বহি সিন্ধকে ফেরৎ পাঠাইয়া হেমন্তবাব আবার শয়ন করলেন। কিন্তু ঘম আসিল না, বিছানায় পড়িয়া এপাশ ওপাশ করিতে লাগিলেন। তাঁহার কেবলই মনে হইতে লাগিল, “কি করি ? দারিদ্র্যের অবস্থায় ষে প্রলোভন থেকে আত্মরক্ষা করতে পেরেছিলাম, এখন স্বচ্ছলতার দিনে সেই প্রলোভনের হাতে আত্মসমপণ করব কি ?” এইরুপ নানা চিন্তায় বেলা তিনটা অবধি কাটিল। হেমন্তবাব তখন উঠিয়া, আপিসকক্ষে গিয়া দেওয়ানজি-প্রদত্ত সেই বিক্ৰেয় গ্রামগুলির তালিকাখানি দেরাজ হইতে বাহির করিলেন। প্রত্যেক গ্রামের হস্তবাদ জমা, আঞ্জামী খরচা, বন্ধমানরাজকে দেয় বাৎসরিক খাজনা, মনোফা প্রভৃতি তাহাতে লেখা আছে। বন্ধমান জেলার সাভে ম্যাপ দেওয়ালে টাঙ্গানো ছিল, তিনি তাহাতে বিভিন্ন গ্রামগুলির অবস্থান পর্যবেক্ষণ করিতে লাগিলেন। সন্ধ্যাকালে দেওয়ানজি পুনরাগত হইলে, হেমন্তবাব তাঁহাকে বলিলেন, “দেখন, খন্দের আর কোথায় খুজে বেড়াব ? আমি নিজেই কিনে নেবো মনে করছি। (তালিকা বাহির করিয়া) এই বাঁশডাঙ্গা আর খাসবেড়িয়া গ্রাম দুখানি লাগাও আছে—এই দুখানি, যদি এক লাখ বিশ হাজারে আপনারা দেন ত আমি কিনে নিতে রাজী আছি।” এত শীঘ্র খরিদার সিথর হইবে, দেওয়ানজি তাহা স্বপ্নেও ভাবেন নাই। একটা সঙ্কোচের সহিত বলিলেন, “সব টাকাটা—কিন্তু নগদ চাই। কেন না--” হেমন্তবাব বললেন, “সে জন্যে চিন্তা নেই। সব টাকাটা এক সঙ্গেই দেবো।” দেওয়ানজি বিসিমত নয়নে হেমন্তবাবর পানে চাহিয়া রহিলেন। প্রথম প্রথম সেই দই টাকা ফৗজের অবস্থা হইতেই উকীলবাবকে তিনি দেখিয়া আসিতেছেন; বৎসরের iS ቴ” > -