পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/১০২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কখনও কখনও আসিয়া দেবরের ন্যায় বধঠাকুরাণীর উদ্দেশে হাস্য-পরিহাস, আমোদআব্দার করিতেন, তিনিও তাহার জবাব দিতেন—কিন্তু অন্তরাল হইতে। সাক্ষাৎভাবে এ পৰ্য্যন্ত কখনও বাক্যালাপ হয় নাই। তাই হেমন্তবাব অনুমান করিলেন, যে বিশেষ কারণ জন্য ইন্দ্রভূষণ অন্তিম-শয্যায় তাঁহাকে দেখিতে চাহিয়াছেন, সম্ভবতঃ সেই প্রসঙ্গেই বউঠাকরণ তাঁহাকে কিছ জিজ্ঞাসা করিবেন। সরেন্দ্র তাঁহাকে লইয়া গিয়া একটি ঘরে বসাইয়া, মাকে আনিতে গেল। ক্ষণকাল পরে অন্ধবিগঠিত একজন প্রৌঢ়া কক্ষে প্রবেশ করলেন। “বউঠাকরণ ?”—বলিয়া হেমন্ত তাঁকে প্রণাম করিয়া, তাঁহার বিষাদখিন্ন সফীত অবনত চক্ষ দুইটির পানে চাহিলেন। গহিণী মাথার কাপড় একটা তুলিয়া, পত্রকে বললেন, “যাও বাবা, তুমি ওঘরে গিয়ে বাস ” হেমন্ত সবিস্ময়ে তাঁহার মুখের পানে চাহিলেন । কি এমন কথা ইনি বলিবেন, যাহা উপযুক্ত পাত্রেরও অশ্রাব্য ? ইহাই তাঁহার বিস্ময়ের কারণ। সরেন্দ্র চলিয়া গেলে গহিণী আশ্রমভরা কণ্ঠে কহিলেন, “ব’স ঠাকুরপো, বস।” “আপনি বসন”—বলিয়া হেমন্ত চেয়ারখানিতে বসিলেন। গহিণী বসিলেন না; তিনি নীরবে দাঁড়াইয়া রহিলেন। হেমন্ত তাঁহার এই সঙ্কোচ দেখিয়া বলিলেন, “আমাকে কি বলবেন, বউঠাকরণ ?” গহিণী সঙ্কোচের সহিত বলিলেন, “ঠাকুরপো, কত্তর্ণ তোমায় কেন ডেকে পাঠিয়েছেন, তা কিছ তুমি জান কি ? "না, আমি ত কিছ জানিনে। আপনি জানেন ?” গহিণী বলিলেন, “না, আমি বিশেষ কিছ জানিনে। তবে এইটুকু মাত্র তিনি আমায় বলেছেন তোমার নাম করে’, ‘এক সময়ে আমি তার একটা ভয়ানক অনিস্ট করেছি t সে আমাকে ক্ষমা না করলে, পরলোকে আমার সদগতি হবে না’। এইটুকু মাত্র তিনি , অামায় বলেছেন, আর কিছুই বলেন নি। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কিন্তু তিনি উত্তর - দেননি চপ করে ছিলেন। হয় ত তাঁর মনে কট হচ্চে, এই ভেবে আমি আর পীড়াপীড়ি করিনি, খুব সম্ভব, সেই বিষয়ে তোমার কাছে ক্ষমা চাইবার জন্যেই তিনি তোমায় ডেকে পাঠিয়েছেন। ঠাকুরপো, আমি ত আজ ত্রিশ বছর তোমাদের দেখছি, সব খবরই জানি; কিন্তু তিনি তোমার প্রতি কোনও দিন কোন অন্যায় যে করেছেন, তা তো আমি জানিনে। কি অন্যায় তিনি করেছেন, যদি বলতে কোনও বাধা না থাকে, তবে তুমি আমায় তা বল, ঠাকুরপো ।” অনিষ্ট করেছেন ? কবে ? কি অনিষ্ট করেছেন ? কই, আমিও ত কিছু ভেবে পাচ্চিনে!” গহিণী বলিলেন, "এ ত আশ্চৰ্য্য কথা ! তিনি বলেন, তোমার তিনি ঘোর অনিস্ট করেছেন, অথচ তুমি বলছ তুমি কিছুই জান না ?” “জবরের ঘোরে তিনি ভুল বকেছেন বোধ হয় ।”—বলিয়া হেমন্তবাব মুখ অবনত করিয়া রহিলেন । গহিণী কয়েক মহত্ত নীরবে চিন্তা করিয়া, মুখখানি তুলিয়া, আশ্রগেদগদ বরে বলিলেন, “আজকে দ্য তিনবার, যখনই ওঁর জ্ঞান হয়েছিল, জিজ্ঞাসা করেছেন, হেমন্ত এসেছে?’ আমরা বলেছি, তাঁকে 'তার' করা হয়েছে, আজ কোনও সময়ে তিনি এসে পৌঁছবেনই। এখন অঘোরে ঘুমাচ্ছেন, আবার জ্ঞান হলেই তিনি তোমায় ডেকে পাঠাবেন। তোমায় কি বলবেন, তা জানিনে—তোমার কি ক্ষতি করার কথা বলে তোমার কাছে মাপ চাইবেন, কিছই আমি অনুমান করতে পারছিনে। তুমি নিজেই যখন এর বিন্দবিসগ’ জান না, আমি কি ক’রে জানব ? কিন্তু দোহাই তোমার ঠাকুরপো”—(গহিণী গলবস্ত্র হইয়া যোড় হাত করিলেন)—"তিনি তোমার প্রতি যে অন্যায় করার কথাই বলন, যে ক্ষতি, お〉 -